এইমাত্র পাওয়া

দ্রুত পদ সৃজন দাবিতে সকস্বাশিসের ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক।।

গতকাল  রাত ৯টায় সরকারি কলেজ স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতি (সকস্বাশিস) এর একটি ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রেস বার্তায় জানানো হয়, সংগঠনের সভাপতি ড. মোস্তফা আনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি মোফাচ্ছের হোসেন জীবন।

এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সদ্য সরকারিকৃত কলেজে পদ সৃজন ও Ad-hoc নিয়োগ সম্পন্নের দাবি জানান। রাত ৯টায় শুরু হওয়া এ মিটিং শেষ হয় রাত ১১টায়।

বক্তারা মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও একটি করে কলেজ সরকারিকরণের মহা উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

মিটিং এ দেশের চলমান করোনা সংকটকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশব্যাপী শিক্ষক সমাজকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময় শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই যাতে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পায় সেজন্য শিক্ষক সমাজের প্রতি আহবান জানানো হয়।

অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ একটু বেশি ব্যায়বহুল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্বল্পমূল্যে অথবা ক্ষেত্র বিশেষে বিনামূল্যে যাতে অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায় সেজন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের ডাটা ক্রয়ের বিষয়টি যাতে আরো সাশ্রয়ী হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।

২০১৬ সালে সরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় আসা কলেজগুলো দীর্ঘ ৫ বছরেও নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে বক্তারা চরম হতাশা ব্যক্ত করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের গড়িমসির কারণে ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ চাকরি হারাচ্ছেন বলে মিটিং এ অভিযোগ করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় এবং তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকারিকরণের এ কাজটি শুরু হলেও কোন অদৃশ্য কারণে তা সম্পন্ন হচ্ছেনা সে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিতকরণের প্রস্তাবও উঠে আসে বক্তাদের কাছ থেকে। সর্বোপরি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে পদ সৃজন ও Ad-hoc নিয়োগ সম্পন্ন হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সদ্য সরকারিকৃত প্রতিষ্ঠানের ৯ম গ্রেডের শিক্ষকগণ যারা অনুপাত প্রথার মতো কালো আইনের কারণে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান নি তারা ১০ বছর পূর্তিতে যাতে উচ্চতর স্কেল এ আবেদনের সুযোগ পায় এবং সেটি যাতে অবশ্যই ৯ম থেকে ৭ম গ্রেড হয় সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারির আহবান জানানো হয় মিটিং থেকে।

সবশেষে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মকবুল হোসেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানীসহ করোনা যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনার্স ডাক্তার নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনা, নৌ, বিমান ও বিজিবির সদস্যবৃন্দসহ নাম না জানা অনেকে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে একটি শোক প্রস্তাব পাঠ শেষে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

মিটিং এ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সঞ্জয় কুমার সাহা, হিরন্ময় দেব, ওবায়দুল হক খান, ড. সুলতান তালুকদার, কমল রায়, রাফেজা মিলি, আশরাফুল ইসলাম, উল্লাসীনি সরকার, এ টি এম শেখ আজরফ, বনানী চক্রবর্ত্তী, মো. আক্তার হোসেন সরকার, আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ, মো. মাহবুবুল আলম, আবু বাক্কার, সঞ্জিত কান্তি দেব প্রমুখ। এছাড়াও সংগঠনের অনেক নেতৃবৃন্দ যারা সংযুক্ত থেকেও কোনো বক্তব্য রাখেন নি অথবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংযুক্ত হতে পারেন নি তাদের সবাইকে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.