নিউজ ডেস্ক ।।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ মহোদয়ের আজ চাকুরীজীবনের শেষ দিন । এই দিনে ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ মহোদয়কে নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দীন মিতুল এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। শিক্ষাবার্তা ডট কমের পাঠকের জন্য
হুবহু তুলে ধরা হলো:-
এভাবেই কি আমরা আপনাকে যেতে দেবো?
কেউ জানে কিনা জানিনা কিংবা কারো মনে আপনার এ চলে যাওয়া বিন্দুমাত্র দাগ কাটবে কিনা তাও জানিনা। তবে জীবনব্যাপী আপনি যে জ্ঞানচর্চা করে গেলেন কিংবা এখনো প্রতিদিন প্রতিক্ষন নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে যাচ্ছেন, গোটা জাতি আপনাকে মুক্তিযুদ্ধ, বংগবন্ধু, বাংলাদেশ কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ইতিহাসের মাঝে খুজে বেড়াবে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম শত বছর ধরে আপনাকে স্বরন করবে মুক্তিযুদ্ধের ১০ খন্ডের এনসাইক্লোপিডিয়ার মধ্যে।
ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে লক্ষ সাইটেশন/রেফারেন্স হয়ে আছেন শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ আর বিখ্যাত প্রায় ১৭ টি বই লেখনীর মাধ্যমে। যে রাষ্ট্রকে ধারণ করে আপনি ইতিহাসের আসল সত্যটুকুন নিখুতভাবে উপস্থাপন করতে সদা সচেষ্ট ছিলেন সেই রাষ্ট্রের কর্ণধার থেকে শুরু করে আপামর জনতার কাছে আপনি এই উপমহাদেশের স্বীকৃত একজন নন্দিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ। প্রথিতযশা গবেষক। আপনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বদলে দেয়ার রুপকার। টানা আট বছরের মাননীয় উপাচার্য। আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতির একজন ছাত্র থেকে আদর্শ অধ্যাপক। সাবেক সফল উপ-উপাচার্য ও ডিন। বদলে দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অনেক কালাকানুন। আপনি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ। আমাদের সকলের কাছে কঠোর পরিশ্রমী এক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক।
স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ আপনার চাকুরীজীবনের শেষ দিন। আপনার জীবনের একটি অদ্ভুত শখের কথা আজ আমাকে ফাঁস করতেই হবে- মানুষ জন্মদিন উদযাপন করে, বিবাহ-বার্ষিকী উদযাপন করে। কিন্তু এর কোনটিই আপনাকে কোনোদিন পালন করতে দেখিনি। সাহস করে জানতে চাইলেও আপনি এড়িয়ে গেছেন। শুধু বলতেন, “জীবনে একটা দিনই সেলিব্রেট করার ইচ্ছে আমার। তাহলো যেদিন আমি চাকুরী থেকে অবসরে যাবো সেদিনটিতেই হবে আমার আসল মুক্তি। আমি সেই দিনটাকেই বড় করে উদযাপন করতে চাই। কারন এরপর আমার আর কোনো বাধা থাকবে না। সাড়াদিন বসে তখন গবেষণা আর লেখা চালিয়ে যেতে পারবো। এভাবে যদি আর মাত্র ১৫টি বছর বেচে থাকতে পারি, তাহলে আরো কিছু গবেষনা প্রবন্ধ ও বই প্রকাশ করতে পারবো”।
স্যার, আজ সেই দিন। করোনাভাইরাস এর কারনে আমরা হয়তো সামনাসামনি কোনো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারিনি সত্যি। তবে অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরবারে মাত্র ১৫ বছর নয় ১০০ বছর সুস্থ হয়ে বেচে থাকার দোয়া করছি।জাতিকে দেয়ার মতো এখনো আপনার বহুকিছুই বাকী রয়েছে। এমন দিনে সকলের নিকট অনুরোধ স্যারের জন্য দোয়া করবেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
