জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি অযৌক্তিক প্রচার, শিক্ষকরা বলছেন যৌক্তিক

২৮ বছর ধরে জনবল কাঠোমোর বাইরে থাকা ৩১৫টি এমপিওভুক্ত কলেজের নন-এমপিও অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সম্প্রতি কতিপয় শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য়ের পদত্যাগ দাবি করেন। এরই পরিপেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়।

এ বিষয়ে শিক্ষকরা বলছেন, আমাদের এমপিওভুক্তির দাবি যৌক্তিক। এই দুর্যোগের সময় কিছু শিক্ষক হয়তো বিক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণ করতে পারেন। তাতে সব শিক্ষককের দাবি অযৌক্তিক হয়ে যায় না।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানকারী নন-এমপিও শিক্ষকরা সরকারের জনবল কাঠামোতে অর্ন্তভুক্ত হতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে অযৌক্তিক ও বিরূপ প্রচার চালাচ্ছেন। এ ধরনের প্রচারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়টি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট কলেজের সভাপতি, গভর্নিং বডি এবং অধ্যক্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ অনৈতিক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। জনবল কাঠামোতে অধিভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া বা না নেওয়া সরকারের বিষয়। নিয়মিত বেতন দেওয়া গভর্নিং বডি তথা কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ উভয় বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের এ তৎপরতা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইমদাদুল হক মিলন (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ‘করোনার এই দুর্যোগের সময় কোনও শিক্ষক যদি বিরূপ আচরণ করে অপপ্রচার চালায় তার দায় ব্যক্তির, সব শিক্ষকের নয়। এমপিওভুক্ত নন-এমপিও অনার্স-মার্টার্স শিক্ষদের জনবল কাঠোমোতে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, সহযোগিতা চাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। ’

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরামের যুগ্ম-আহবায়ক বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগ চাওয়া আমাদের মূল দাবি নয়। ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। আমরা চাই সরকার আমাদের এমপিওভুক্ত করুক।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনবল কাঠামো অনুযায়ী ডিগ্রিস্তর পর্যন্ত পারিচালিত এমপিওভুক্ত কলেজগুলোয় ১৯৯৩ সালে অনার্স-মাস্টার্সের অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলে শিক্ষকদের মূল বেতন দেওয়ার শর্তে অনার্স-মাস্টার্সের বিষয় অনুমোদন নেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কলেজের টিউশন ফি থেকে শিক্ষকদের বেতনভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এই পর্যায়ে কলেজগুলোর জনবল কাঠামোতে স্থান পায় না অনার্স ও মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের পদ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.