এইমাত্র পাওয়া

প্রসংগত: বে-সরকারি শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল বিতর্ক

বিশ্বজিৎ রায়।।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রানালয় বেসরকারি শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড ছাড়করণের একটি পরিপত্র জারী করেছে। তাতেই দেখা দিয়েছে সমগ্র বেসরকারি শিক্ষক সমাজে বিতর্ক। কারণ এ জন্য যে পরিপত্র টি স্পষ্ট নয়। ফেসবুকের একটি লেখনি থেকে জানতে পারছি যে সকল শিক্ষক ১ম এমপিও ভূক্তির সময় ১১ তম গ্রেড নিয়ে এমপিও ভূক্ত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে বিএড করে ১০ম গ্রেড পেয়েছেন তারা আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। বিতর্কটা এখানে।

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬অর্থ মন্ত্রানালয়ের বাজেট অনুবিভাগ কর্তৃক জারীকৃত” জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ স্পষ্টিকরণ” এক প্রজ্ঞপনে ” উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতার “শর্তে বলা হয়েছে “(১) একই পদে কর্মরত কোন কর্মচারী
দুই বা ততোধিক উচ্চতর স্কেল( টাইম স্কেল/ সিলেকশন গ্রেড,যে নামে অভিহিত হইক) পাইয়া থাকিলে তিনি এই অনুচ্ছেদের অধীন উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেনা।
(২) একই পদে কর্মরত কোন কর্মচারী একটি মাত্র উচ্চতর স্কেল( টাইম স্কেল/ সিলেকশন গ্রেড , যে নামে অভিহিত হউক না কেন ) পাইয়া থাকিলে উচ্চতর স্কেল( টাইম স্কেল / সিলেকশন গ্রেড) পাইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৬ বছর পূর্তির পর ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন।
(৩) একই পদে কর্মরত কর্মচারী কোন প্রকার উচ্চতর স্কেল ( টাইম স্কেল / সিলেকশন গ্রেড, যে নমে অভিহিত হউক ) না পাইয়া থাকিলে সন্তোষজনক চাকরির শর্তে তিনি ১০ বছর চাকরি পূর্তিতে ১১ তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড এবং ৬ বছরে পদোন্নতি না পাইলে ৭ ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন।

অর্থ মন্ত্রানালয়ের বাজেট অনুবিভাগ কর্তৃক জারীকৃত স্পষ্টিকরণ পরিপত্রে ১, ২ ও ৩ নং ধারা স্পষ্ট করে বলা রয়েছে অভিজ্ঞতার কথা। কোন কর্মকর্তা কর্মচারী অাগে ৮ বছর ( আগেকার ম্যনুয়াল) পূর্তিতে অভিজ্ঞতার স্কেল পেয়ে থাকলে তিনি অার এ স্কেলের আওতায় আসবেন না। এখন প্রশ্ন হলো বিএড স্কেল টি অভিজ্ঞতার স্কেল কী না?

এখন দেখা যাক ২০১৮ এ জারীকৃত এমপিও নীতিমালায় কী আছে। এমপিও নীতিমালার

১১.৩ এর (ক)নিম্ন মাধ্যমিক / মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমপিও ভূক্ত শিক্ষায় ডিগ্রি বিহীন কোন সহকারী শিক্ষকদের / মৌলভী যোগদানের পর ৫ বছরের মধ্যে সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষন কলেজ / পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জন করলে তিনি এ ডিগ্রির জন্য বেতন স্কেলের গ্রেড ১০ প্রাপ্য হবেন।

১১.৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক / কর্মচারীগণ তাদের এমপিও ভূক্তির তারিখ হতে ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী উচ্চতর বেতনগ্রেড প্রাপ্য হবেন এবং পরবর্তী ৬ বছর পর একইভাবে পরবর্তী উচ্চতরগ্রেড প্রাপ্য হবেন। তবে উল্লেখিত স্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একই স্কেলে যথাক্রমে ১০ বছর বা ৬ বছর পূর্ণ হতে হবে। সমগ্র চাকরী জীবনে দুটির বেশি টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন না।

এমপিও নীতিমালা পর্যালোচনা করলে দেখাযাবে যে এখানে নিশ্চিত ভাবে অভিজ্ঞতার স্কেলের কথা বলা হয়েছে। আর অভিজ্ঞতার স্কেল এবং শিক্ষায় অর্জিত স্কেল এক নয়। শিক্ষায় ডিগ্রি, একটি পেশাগত ডিগ্রী। আর এ ডিগ্রী গ্রহণ করার ফলে কারো পদ-পদবীর পরিবর্তন হয় না। কিন্তু অভিজ্ঞতার স্কেল অর্থাৎ ০৯ নং গ্রেড পাওয়ার পর তিনি সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে পরিগনিত হবেন।

গত ২৯ নভেম্বর ২০১৬ খ্রী:মাননীয় আদালয় একজন মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষকের আবেদনের প্রক্ষিতে মাদ্রাসার মৌলভী ( কামিল পাস) শিক্ষকদের সাথে স্কুলের মৌলভী ( কামিল পাস ) শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরিকরণ জন্য এবিষয়টি রায় প্রদান করে।

উপরোক্ত তথ্যের আলোকে আমার নিজস্ব মতামত তুলে ধরলামঃ

(১) শিক্ষায় ডিগ্রি বিহীন সহকারী শিক্ষকগণ ৫ বছরেরর মধ্যে শিক্ষায় ডিগ্রি নিয়ে বেতনগ্রেড ১০ অর্জন করতে হবে।

(২) বিএড বিহীন শিক্ষকগণ বিএড ডিগ্রী অর্জন করার পর ১০ নং বেতন গ্রেড লাভ করবে। ১০ নং গ্রেড পাওয়ার পর ১০ টি বছর অপেক্ষা করতে হবে।,১০ বছর পর তিনি ৯ নং গ্রেড উন্নীত হবেন। জনবল কাঠামো ২০১৮ তে “একই স্কেলে ১০ বা ৬ বছর সন্তোষজনক ভাবে পূর্ণ হতে হবে “এ কথাটি না থাকলে ১০ নং গ্রেড প্রাপ্তরা এমপিও থেকে ১০ বছর পর ৯ নং গ্রেডে যেতো আর ৫ বছরের মধ্যে যে কোন একটি সুবিধামত একটি সময়ে বিএড টা করে নিতে হতো। কিন্তু ঐ কথাটা থাকার দরুন বিএড বিহীন শিক্ষকগণ বিএড সনদ অর্জন করার পর বেতন স্কেল গ্রেড ১০ গ্রহণ করবে এবং ১০ বছর পর ৯ ম গ্রেডে যাবেন।

(৩) বিএড ডিগ্রিধারিদের বিএড স্কেল পাওয়ার পর সন্তোষজনকভাব ১০ বছর পার করতে হবে ৯ গ্রেড পাওয়ার জন্য। চাকুরী বিরতি গ্রহণযোগ্য নহে।

(৪ ) প্রাধান শিক্ষক,অধ্যক্ষ সহ:প্রধান ও উপাধ্যক্ষ এ নিয়মের আওতায় আসবেনা। তারা তো নিয়ে অভিজ্ঞতার স্কেল পান।

(৫) লাইব্রেরীয়ান, ধর্মীয় শিক্ষক কৃষিডিপ্লোমা ও বিপিএড শিক্ষক এ আওতায় আসবেনা তারা এমপিও ভুক্তির সময় ১০ নম্বর গ্রেড নিয়ে এমপিও ভুক্ত হয় আর পরবর্তী ১০ বছর সন্তোষজনক চাকুরীর সাপেক্ষে ৯ গ্রেডে অন্তর্ভূক্ত হয়।

(৬) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক( ইসলাম ধর্ম) ১০ বছরে ২২০০০/- স্কেল পেলে মাদরাসার মৌলভী শিক্ষক যিনি একই যোগ্যতা সম্পন্ন তিনি পাচ্ছেন ১৬০০০/-। এখনই এ বৈষম্য দূর করার উপযুক্ত সময় বোধ করি।

আমাদের দেশে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য এমন যে, একজন লাইব্রেরিয়ানের চেয়ে কম টাকা বেতন পান একজন শিক্ষক। একজন লাইব্রেরিয়ানের বেতন স্কেল ১৬০০০/- আর একজন স্নাতক পাশ শিক্ষকের বেতন ১২৫০০/-। আবার একজন সরকারি পিওনের বেতন, একজন শিক্ষকের চেয়ে দ্বিগুন। এনটিআরসিএ চালু হওয়ার পর থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেধাবিদের ঢোকার পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু বেতন ব্যবস্থায় যদি এমন বৈষম্য বিরাজ মান থাকে তাহলে মেধাবীদের আসার আগ্রহ কমে যাবে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বেসরকারি শিক্ষদের উচ্চতর স্কেলের ( আগেকার টাইম স্কেল) সমস্যার সুরাহা করবেন বেসরকারি শিক্ষক সমাজ এ প্রত্যাশা করে।

লেখক: শিক্ষক
মৃজাপর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
তালা,সাতক্ষীরা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.