বিন-ই-আমিনঃঃ
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহর সকল সৃষ্টির মধ্যে শিক্ষা, বুদ্ধি,বিবেক খাটিয়ে মানুষ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। পৃথিবীর সৃষ্টি যার কারণে সেই মহামানব এর বাণী এবং সেরা গ্রন্থ আল কোরানেও যুগে যুগে মহামারির ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত আছে । দেড় হাজার বছর আগে পবিত্র কোরানে যা লিপিবদ্ধ ছিলো বিজ্ঞান এখন সেসব সত্যি বলছে। কোরান অনুসরণে বিজ্ঞান যেসকল মহামারির কারণ,প্রতিকার বর্ণনা করেছিলেন পরবর্তীতে তা বাস্তবে প্রমাণ হয়েছিল যে পৃথিবী সৃষ্টির পিছনে অদৃশ্য এক শক্তি আছে। ২০১৯ সনের কোভিড-১৯ নামে খ্যাত মহামারি “করোনা” মানব জাতিকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তার ইশারা ছাড়া জগতে কোনো কিছুই ঘটেনা। গাছের পাতাও নড়েনা। যা কিছু ঘটে সবই তার ইশারায়। যদিও সৃষ্টিকর্তাকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন নামে ডাকেন এবং বিশ্বাস করেন।
পৃথিবী সৃষ্টির রহস্যময়। সামান্য এক ভাইরাস “করোনা”পুরো পৃথিবীকে উলট-পালট করে দিয়েছে। মানব সভ্যতা যতো উন্নত হয়েছে ,মহামারির প্রাবল্যও ততো বেড়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে মহান আল্লাহ তার সৃষ্টির সেরাদের যতো ভালোবাসেন তার শতকরা মাত্র ১ ভাগ মায়া, মমতা,আদর,ভালোবাসা দিয়েছেন মানুষকে । একজন গর্ভধারিনী মা তার সন্তানের জন্য কী না করে? একজন জন্মদাতা পিতা সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেন। পিতামাতা না খেয়ে,না ঘুমিয়ে সন্তানকে খাওয়ান,নিরাপদে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। সন্তানের মঙ্গলের জন্য সম্ভব-অসম্ভব সব কিছু করেন। আমরা সম্রাট বাবর ও তার অসুস্থ ছেলে হুমায়ুনের অসুস্থ থেকে সুস্থ হওয়ার ইতিহাস জানি। ইতিহাসে বাবরের মতো বাবার অবদান কেয়ামত পর্যন্ত মনে রাখবে। আবার করোনা পরিস্থিতিতে ২০২০ সনে ঘটে যাওয়া কিছু নিষ্ঠুর কাহিনীও ইতিহাসে লেখা হয়ে যাবে। এক অদৃশ্য ভাইরাস”কোভিড-১৯”পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোতে যে তান্ডব চালিয়েছে তা মানব জাতি ভুলবে কি করে? বিজ্ঞান ও ইতিহাস থেকে জানা গেছে ১০০ বছর আগে ১৯১৮ সনেও স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির তান্ডব চালিয়েছিল পৃথিবীতে। ৫ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল তখন। ১৯৮১ সনে এইডস্, ১৯৫৭ সনে এশিয়ান ফ্লু,১৮৮৯ সনে রাশিয়ান ফ্লু,১৮৫৫ সনে ৩য় প্লেগ,১৮১৭ সনে ১ম কলেরা,১৭৯৩ সনে ইয়েলো ফিভার এপিডেমিক অব আমেরিকা,১৬৬৫ সনে দ্য গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন,১৩৫০ সনে দ্য ব্ল্যাক ডেথ,একাদশ শতাব্দীর কুষ্ঠ,২০০৩ সনে সার্স,২০০৯ সনে সোয়াইন ফ্লু,২০১২ সনে হাম,২০১৪ সনে ইবোলা,২০১৯ এডিশ মশার ডেঙ্গু । যুগে যুগে যেসব মহামারি পৃথিবীতে এসেছে করোনা তাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এবারের তান্ডব আগের সব রেকর্ডের চেয়ে ভয়াবহ। আগের সব মহামারি কিছুদিন তান্ডব চালিয়ে চলেও গেছে। কিন্তু এবারের করোনা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। উন্নত দেশের চিকিৎসকগনও এই ভাইরাসের কাছে নতি শিকার করেছেন। কিন্তু থেকে নেই তাদের প্রচেষ্টা। এই ভাইরাস বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আচরণ করছে। খোদ আমেরিকার চিকিৎসক জানিয়েছেন প্রতিষেধক বের হতে দেড় বছর লাগবে। প্রথম দিকে জ্বর,গলাব্যথা,কাশি এই রোগের লক্ষণ হলেও পরবর্তী কালে সম্পূর্ণ সুস্থ লোকের শরীরেও করোনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোনো লক্ষণ ছাড়াই সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ হঠাৎ মারা যাচ্ছেন। নমুনা পরীক্ষায় যাদের শরীরে করোনা পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় নমুনার ফলাফল আসতে দেরী হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিয়েও অভিযোগ বিস্তর। করোনা ইউনিট চালু নিয়েও গড়িমসি। করোনার ভয়ে সাধারণ রোগীর অযত্ন অবহেলার মতো ঘটনাও কম নয়। এ তালিকা থেকে বাদ যাননি খোদ চিকিৎসকগনও। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের মালিকও মারা গেছেন করোনায়। করোনা যেমন চরিত্র পাল্টেছে,মানুষের চরিত্রও পাল্টিয়েছে করোনায়। আমরা দেখেছি এই করোনার কারনেই স্বামী স্ত্রীকে,স্ত্রী স্বামীকে, ভাই ভাইকে, স্ত্রী সন্তান সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিকে( কারো স্বামী,কারো বাবা) নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর ভয়ে ঘরে তালাবদ্ধ রেখেছিল। করোনা রোগীকে সারারাত পানি পানি করে চিৎকার করেও মরার আগে পানি না পেয়ে জীবন দিতে হয়েছে। স্ত্রী সন্তান তাদের জন্য খাবার, জামা-কাপড় এনে দেওয়া সেই অসুস্থ লোকটিকে মানুষ হিসেবে সাহায্য করাতো দুরের কথা একগ্লাস পানিও জুটেনি তার কপালে। করোনায় মৃত ব্যক্তির জানাজায় নিকটাত্মীয় অনুপস্থিত। করোনা মানব জাতিকে চোখে আঙুল দিয়ে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
ইতালি,লন্ডন,কানাডার মতো উন্নত দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা প্রাণপন চেষ্টা করে নিজেরাও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও খুব উন্নত। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে একজন সাধারণ রোগীর মতো চিকিৎসা করা হয়েছিল। সেবিকা সেবা করেছিলেন রোগীকে,ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে নয়। আমাদের দেশের করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক কে সিলেট থেকে ঢাকায় আনার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা দেখিনি। অথচ বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির জন্য বিশেষ বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখেছি। দেশে তৈরি এন৯৫ নামের মাস্ক চিকিৎসক সুরক্ষার বিশেষ মাস্ক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব,মহাপরিচালক,আইইডিসিআর এর পরিচালক এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে কাজের সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে । আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সেই দেশে আক্রান্তের পরিমান বেড়েছে বলে মনে করা হয়। মৃত্যুর দিক থেকেও বিশ্বের সেরা পরাশক্তির দেশটি শীর্ষে। কিন্তু তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো নাগরিকদের আপত্তি নেই। অনেক চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন ইতালি,আমেরিকায়। কিন্তু আমাদের দেশের আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষের মাঝেও নিষ্ঠুরতার দেখা গেছে। পরিবারের কারো করোনা হলে অন্য সদস্যরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে অপরাধীর মতো আচরণ করছে। সহানুভূতির সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ যেনো আমরা ভুলে যেতে বসেছি। ব্যতিক্রম নেই তাও বলছিনা। রোগীর সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তার আক্রান্ত। মৃত্যুর ঘটনাও আছে আমাদের। জনগনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যদেরকেও বীরের ভূমিকায় দেখা গেছে। অনেকে মৃত্যু বরণ করেছেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা গরীব অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। করোনায় মৃত্যু ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কাজে অংশ নিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর ভূমিকাও প্রশংসনীয়। কিন্তু পরিতাপ ও হতাশার বিষয় হলো অনেক জায়গায় জনপ্রতিনিধিদের দেখেছি চোরের ভূমিকায়। কর্মহীন অসহায় গরীব মানুষের ত্রাণ হজম করতে না পেরে পুকুরে। খাটের নিচে তেলের খনি। মাটির নিচে চাউল। এ যেনো কেসিনো কাহিনীকে হার মানিয়েছে । করোনার কারণে কে কতোদিন বাঁচবে তার কোনো গ্যারান্টি নাই। কিন্তু চুরিও থেমে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুশিয়ারিতেও অপরাধ ও চুরির ঘটনা ঘটেছিলো। মানুষ হিসেবেও আমরা অনেক অসচেতন। লকডাউন চলাকালীন কাপড়ের দোকানে মহিলাদের উপচে পড়া ভীড়। কোলে শিশু সন্তান নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন অনেকে। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। এ যেন করোনাই তাদের কাছে অসহায়। ৮ মার্চের পর ধীরে চলো নীতিতে চললেও এখন সেই চলার গতিরোধ করা কঠিন। এখন নমুনা পরীক্ষার শতকরা প্রায় ২০% উপরে আক্রান্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতেই প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ৩৫-৪৫ জন। অজানা তথ্য বাদই দিলাম। সরকারি উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা,মন্ত্রী,এমপি,শিল্পপতি কেউ রেহাই পাচ্ছেন না করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে। এভাবে চললে আগামী জুলাই মাসের শেষে কী অবস্থা হবে কল্পনা করতেও গা শিহরণ দেয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখা সফল ব্যক্তিদের করোনায় মৃত্যুর সংবাদ জেনেছি। ঈদের আগে গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকায় যাওয়ার সময় ফেরীঘাটে হাজারো শ্রমিকের ভীড়। একজায়গায় লকডাউন,নিরাপদ দুরত্বের কড়াকড়ি। অন্য জায়গায় উপচেপড়া ভীড়। কিছু কিছু জায়গায় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ। ফলে আক্রান্তের পরিমান বেড়েই চলছে। আমরা দেখেছি বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বাংলাদেশ থেকে চলে গেলে এমন সময় যখন স্বাভাবিক যোগাযোগ বন্ধ ছিলো। বিশেষ ফ্লাইটে তারা নিজেদের দেশে চলে যান। কি কারনে তারা আমাদের দেশ ছেড়ে তড়িঘড়ি করে চলে গেলো তা সাধারনের বোধগম্য নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়মিতভাবে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সাবধান বাণী করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শক্তহাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখেই দেশের জনগণ শুরুর দিকে আস্থা রাখলেও আস্তে আস্তে কোনো এক অজানা কারনে শিথিল হতে দেখেছি। শুরুতে ২/১ জন করে আক্রান্তের খবর প্রচারিত হলেও ধীরে ধীরে দৈনিক আক্রান্তের পরিমান ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। যা শতকরায় ২০ ভাগের বেশি। এ হিসেবে ১ লক্ষ লোকের নমুনা পরীক্ষা করলে আক্রান্ত ছাড়াবে ৩০ হাজার। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে হাজারো কোটি টাকার মালিক হয়েও দুই ভাইকে এক ভেন্টিলেটর ব্যবহার করতে হয়েছে। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম বিঘ্নিত। মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিলোনা। যারা এক সপ্তাহে বিলাসবহুল হাসপাতাল তৈরি করতে পারেন। ৮ টি ব্যাংক সহ ৩৪ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যাদের দখলে তারাও অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেছেন করোনার কাছে। বিভিন্ন হাসপাতালের সরঞ্জামাদী ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের সংবাদ দেখেছি। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যাবার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের কথামতো কাজ না করায় এক হাসপাতালের
সুপারকে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার মাত্র ১৫ দিন আগে ওএসডি করার ঘটনাও আছে আমাদের। করোনার ভয়ে করোনাহীন রোগীদের সাথে অসদাচরণ হয়েছে অনেক। চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। আমাদের দেশেই ডাক্তারদের হাতে রোগী ও রোগীর স্বজনদের মার খেতে দেখেছি। ডাক্তাররা রোগী না দেখে তাদের দাবী আদায়ে আন্দোলনে করে। এরকম কাহিনি পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। করোনা কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শক্ত হাতের কঠোর নেতৃত্বের কারণে চিকিৎসকগণ অনেক জায়গায় আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব পরিচয় দিচ্ছেন। চিকিৎসায় প্রণোদনা ও বীমার কারণে উৎসাহ হারায়নি চিকিৎসা কার্যে নিয়োজিতরা । তবুও আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ করোনায় তাদের পেশাদারিত্ব মনোভাব দেখিয়েছেন। স্ত্রী যেখানে স্বামীকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যায় করোনার ভয়ে। সেখানে ডাক্তারের ভুমিকা প্রশংসনীয়। বাবা তার সন্তানকে কোলে তুলতে পারেনা,আদর করতে পারেনা। ইচ্ছে থাকলেও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেনা। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে হচ্ছে আমাদের। করোনার আগেও এতো আদর,যত্ন,ভালোবাসা,মায়া,মমতা আজ কোথায়? মসজিদে জামাতের সহিত নামাজ পড়ায় বিধি নিষেধ। মক্কা শরীফে হজম পালনে বিধিনিষেধ। সবাই নিজেকে বাঁচানোর সব পথ খুঁজছে। কে কতোদিন বেঁচে থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নাই। আমরা দেখেছি মাটি থেকে চার কিলোমিটার নিচে গভীর স্বর্নখনিতে শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত,সমুদ্রের জাহাজের নাবিকদের করোনা আক্রান্তের খবরও পেয়েছি,যারা করোনা শুরুর আগেই সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিলো। যে দেশের প্রধান করোনাকে পাত্তা দেয়নি,পরবর্তীতে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল করোনায়। করোনার কারনেই মুসলমানদের জমায়েত হয়ে নামাজ পড়া বন্ধ ছিলো সৌদি আরবে। তারই ধারাবাহিকতা বজায় ছিলো পৃথিবীর অন্য মুসলিম দেশগুলোয়। কোলাকুলি,করমর্ধণ সবই বন্ধ। আবেগ,আদরের বহিঃপ্রকাশ বেঁচে থাকার কাছে নিতান্তই অপ্রয়োনীয়। এতো কিছুর পরও আমাদের অপরাধ থেমে নেই। ক্ষমতা ব্যবহার করে কলমের খোঁচায় চুরি, গরীব অসহায়ের ত্রাণচুরি চলছেই। ক্ষমতার হুংকার দেওয়া লোকজন করোনার কাছে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করলেও অনেকের চুরি থেমে নেই। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অর্থনৈতিক মন্দা পিছু ছাড়বেনা। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তর হওয়ার পথে। করোনার কারনে চাকরি হারাতে হবে কোটি মানুষের। বিদেশ থেকে যারা ফেরত এসেছেন সেসকল রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়া কঠিন। গার্মেন্টস কর্মীদের অনেকে বেকার হয়ে পড়বে। শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া সময় সাপেক্ষ। কর্মহীন গরীব ও নিম্নবিত্তদের কাজ পাওয়া কঠিন হবে। তবুও মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবে। পৃথিবী নামক এই যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল চুরির পরিমান বাড়িয়ে দেবে। যারা করোনা পরিস্থিতিতেও নিজেদের শোধরাবার চিন্তা করেনি। আমরা কবে মানুষ হবো? লুটেপুটে খাওয়া লোকগুলো কখনোই চিন্তা করেনি অদৃশ্য ভাইরাস যে কাউকে শেষ করে দিতে পারে। চিকিৎসা ব্যবস্থাও যেখানে অসহায়,টাকা সেখানে অপ্রয়োজন। মানব জাতি আজ এই চীর সত্য টি বিশ্বাস করে যে,একমাত্র আল্লাহর দয়া ও করুনা ছাড়া এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ নেই। বিধর্মীরাও এখন শুধু সৃষ্টিকর্তার কৃপার উপর ভরসা করে আছেন। আমরাও আশা করি মহান আল্লাহ কোনো কারনে হয়তো তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের উপর নাখোস হয়ে গজব হিসেবে করোনার মাধ্যমে সাবধান বাণী পৌছে দিয়েছেন। সীমালঙ্ঘনকারীকে নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না। এবং তিনিই আবার মহামারি থেকে অচিরেই তার সৃষ্টিকে অবশ্যই রক্ষা করবেন। এ প্রত্যাশা সকলের।
বিন-ই-আমিন
সহকারী সম্পাদক
শিক্ষাবার্তা ডটকম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
