এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নিতে চাপ প্রয়োগ না করার আহ্বান

আজ সকাল ১০ ঘটিকায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে এক ভার্চুয়াল ( জুম) মিটিং অনুষ্টিত হয়।সভায় বর্তমান করোনাকালীন বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা,শিক্ষক,শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভার শুরুতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক শিক্ষকসহ যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।যে সকল শিক্ষকগণ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সকলের সুস্থতা কামনা করা হয়।
সভার সিদ্ধান্তসমূহঃ-
০১)শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নিতে যাতে কোন অতিউৎসাহী কর্মকর্তাগণ চাপ প্রয়োগ না করেন,এ বিষয়ে সম্মানিত সচিব ও ডিজি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং নির্দেশনা কামনা করা হয়।যদি কোন শিক্ষক নিজেকে সুরক্ষিত রেখে উৎসাহী হয়ে পরীক্ষার উদ্যোগ নেন,সেটাকে আমরা নিরুৎসাহী করছি না,কিন্তু সেজন্য জেনেবুঝে সকল শিক্ষককে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া ঠিক নয়।যে সকল কর্মকর্তাগণ ইতিমধ্যে কিছু জায়গায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন,আমরা দৃঢ়ভাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। বাঁচামরার এ পরিস্থিতিতে আমাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না।
০২) বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সকল শিক্ষকগণকে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীর সাথে ফোনালাপের মাধ্যমের শিশুর পড়াশোনার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি এবং পাঠ অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।
০৩) করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত শিক্ষকগণ যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঝুঁকি ভাতার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হন,এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানানো হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ,হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি,১০৪টি জেলায় শিক্ষার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিস্কুটবিতরণ,উপবৃত্তির তালিকা ও চাহিদা তৈরি,ভিজিটি ও ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ,বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ও তথ্য প্রদান,এসব সরকারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই শিক্ষকগণ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
০৪) সংসদ টিভি সহ অনলাইন ক্লাস সমূহকে আরো বিকেন্দ্রীকরণ করে বিটিভি,এফএম রেডিও, ক্লাস ভিডিও করে অভিভাবকদের কাছে পাঠানোর মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব শিক্ষীর্থীর কাছে পৌছানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখা।
০৫) করোনা চলাকালীন বর্তমান অবস্থায় শ্রান্তিবিনোদনভাতা নিয়ে শিক্ষকগন দুশ্চিন্তায় আছেন।প্রতি তিন বছর পরপর যেন সকল শিক্ষক শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পান তার ব্যবস্থা করা।ছুটির তালিকায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি অন্ততঃ ১৫দিন রাখার ব্যবস্থা করা।যেসব উপজেলায় এখনো বরাদ্দ ঘাটতি আছে তার ব্যবস্থা করা।
০৬)০৯/০২/২০২০খ্রি. সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি হলে ও উচ্চধাপে বেতননির্ধারণের নির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকগণ উৎসব ভাতায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন,কারণ উন্নীতস্কেলের বকেয়া হলে ও উৎসবভাতার কোন বকেয়া হয় না।
০৭)প্রধান শিক্ষকদের ০৯/০৩/২০১৪ খ্রি. থেকে ১৪/১২/২০১৫ খ্রি.পর্যন্ত টাইমস্কেল জটিলতা নিরসন করে, টাইমস্কেল প্রদানের ব্যবস্থা করা।
০৮) চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্বভাতার বরাদ্দ প্রদান করাসহ তাদের দ্রুত স্থায়ীকরণ করা।যেহেতু মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে তাদের গেজেটসহ সকল তথ্যাদি আছে,শুধু উপজেলা থেকে যে কয়জন যোগদান করেনি,তাদের তথ্য সংগ্রহ করলেই হবে।
০৯) বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের কোন নিজস্ব পরিবহন নেই, তাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণের মতো অনুরুপ সহজশর্তে মোটরবাইকের ব্যবস্থা করা।
সবশেষে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সকল নেতৃবৃন্দসহ সকল শিক্ষকগণকে সারাদেশে করোনা আক্রান্ত শিক্ষদের পাশে থাকার জন্য,সহযোগিতা করার জন্য,সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে,সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে, সবার সুস্থতা কামনা করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাসেম।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.