কুতুবপুরে কোরনায় আক্রান্ত সেই চিকিৎসকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউএনও নাহিদা বারিক

মোঃ জিয়াউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জ জেলার চিকিৎসক শিল্পী আক্তার ও তার পরিবারের পাশে মমতা ও সহানুভূতির ছোঁয়া নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

প্রসঙ্গত, ডা. শিল্পী আক্তার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই হাসপাতালে রোগীদের পাশে ছিলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব দিন-রাত পালন করে এসেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার পরিবারের আর ১৬ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তারা বর্তমানে সকলে বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

কিন্তু এই চিকিৎসক যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে করোনা আক্রান্তদের সেবা দিয়েছিলেন, আজ যখন তিনি এবং তার পরিবার বিপদগ্রস্ত তখন যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই বিপদে, সেই প্রতিবেশীরা তাদেরকে বাসা থেকে পরিবারসহ অন্যত্র চলে যেতে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বাসায় ঢিল ছুঁড়া হচ্ছে, রোগীদের বহনের জন্য ওখানে এম্বুল্যান্স পর্যন্ত ঢুকতে দেয়া হয়নি। করোনা আক্রান্ত এই পরিবারের যখন টাকাপয়সা নয় সবচেয়ে বেশি দরকার মানুষের ভালোবাসা এবং মমত্ববোধ, সেই ক্রান্তিকালে মানুষের এমন হিংস্র মনোভাব সকলকে পীড়া দেয়।

ডা. শিল্পী আক্তার এর পরিবারের এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। তার পরিবারের খাদ্য, ঔষধ, নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার চিকিৎসকের পরিবারের উদ্দেশ্যে মমতার পরশ বুলিয়ে দেন এবং এলাকাবাসীকে অনুরোধ করেন যেন তারাও ঝোঁকের বশবর্তী না হয়ে এবং ঘৃণা পরিহার করে বরং পরিবারটির প্রতি সহানুভূতিশীলতা প্রদর্শন করে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। করোনা ভাইরাস এর বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং মমতা ও সহানুভূতির দেয়াল তৈরি করে করোনাকে জয় করতে সচেষ্ট হতে বলা হয়।

করোনায় আক্রান্ত পরিবারকে আশ্বস্ত করে ইউএনও নাহিদা বারিক বলেন,আপনারা মনোবল হারাবেন না। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে। আল্লাহর রহমতে আপনারা সকলেই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য,ডা. শিল্পী জানান, সিভিল সার্জন অফিসে তার জন্য নিয়মিত খাবার দিয়ে যেতেন তার ছোট ভাই। সম্প্রতি ওই ভাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। গত ২১ এপ্রিল ফলাফল কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে তার। পরে সন্দেহ দূর করতে গত ২৩ এপ্রিল বাকি ১৮ সদস্যেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এতে সাত বছরের এক শিশু ছাড়া অন্য সবার শরীরেই সংক্রমণ ধরা পড়ে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.