নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজবাড়ী।।
মহামারী করোনা ভাইরাসে দেখতে দেখতে বাংলাদেশ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার আর এর সাথে প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে মৃতের সংখ্যা। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর এই আজ পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪০ জন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি চলছে সরকার কর্তৃক লকডাউন না ঘোষণা করা হলেও প্রায় প্রতিটি জেলায় চলছে লকডাউন। গত ১১ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলায় একই দিনে ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিনই জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দিনের জন্য রাজবাড়ী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে। এর পর আরও তিন জন করোনায় আক্রান্ত হলে গত ২১ এপ্রিল ২০২০ জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম স্বাক্ষরিত গনবিজ্ঞপ্তিতে জেলা কে অনির্দিষ্ট কালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
তবে জেলার উপজেলা শহর গুলোতে লকডাউন মানা হলেও মফঃস্বল গ্রাম এবং বাজার গুলো চলছে স্বাভাবিক নিয়মেই। আগেরমতই খোলা রয়েছে দোকান পাট এমনকি সকাল দুপুর এবং রাত পর্যন্ত থেমে নেই চায়ের দোকানের আড্ডাও।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২০) জেলা পাংশা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজার ও গ্রামের দোকান গুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষি প্রধান এ উপজেলায় কৃষি খামারে এখন কাজ না থাকায় বাজার ও চায়ের দোকানগুলোতে চলছে আড্ডা। এদিকে ইফতারি বিক্রিরও ধুম চলেছে। প্রতিটি বাজার যেখানে ১১ টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা সেখানে সকাল সাত টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা সাধারণ দোকান।।
দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা অভাবের কারণেই নিজেদের দোকান চালু রেখেছেন। এছাড়াও স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের নিষেধ থাকার পরেও তারা দোকান খোলা রাখছেন। শুনছেন না এলাকার সেচ্ছাসেবীদের কথাও।
কলিমহর বাজারে দেখা যায় একজন হোটেল মালিক খোলা রেখেছেন তার হোটেল। কথা বলে জানা যায়, সে স্থানীয় মেম্বারের অনুমতি নিয়ে হোটেল খুলেছেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি সোহাগ মিয়া বলেন, প্রশাসন এখানে আসে না, তারা নিয়মিত টহল নিশ্চিত করলে আর কেউ দোকান খুলবে না। যদিও আসে প্রশাসনের আসার খবর পেলে দোকান বন্ধ করে সবাই চলে যায় প্রশাসন যাওয়ার সাথে সাথেই ফের দোকানপাট আবার খোলা হয়।
একই ইউনিয়নের বসাকুষ্টিয়া বাজারে খোলা হচ্ছে চায়ের দোকান , মুদিখানার দোকানও খোলা রাখছেন সকাল সন্ধ্যা। ডাক্তারের দোকানেও চলছে আড্ডা।
একই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ বাজার হোসেনডাঙ্গা বাজারে ঘুরে দেখা যায়, সব দোকান বন্ধ খোলাএকজন গ্রাম পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করছেন।তারপরও কিছু মানুষ কথা শুনছেন না, বাজারের উপর এসে বিনা কারণে বসে থাকে। তারা তাদের বাসায় ফিরে যাবার আহবান জানাচ্ছেন।
ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজারে দেখা যায় চায়ের দোকানে চলছে আড্ডা এবং ডাক্তারদের নেই মাস্ক এবং মানেছেন না সামাজিক দুরত্ব। ডাক্তারের দোকানের ভিতরেই গাঘেঁষে বসে আছেন অনেক রোগী।

কলিমহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জলিল মন্ডলের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একই চিত্র দেখা যায় সরিষা ইউনিয়নের সরিষা বাজার, মাছপাড়া ইউনিয়ন, যশাই ইউনিয়ন, বাগদুলী বাজার।
তবে প্রশাসন বলছে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন সরকারি নিয়ম মেনে সবাইকে বাসায় থাকতে। মানুষকে বোঝাচ্ছেন। তবে চাইলেও প্রতিটি গ্রামে গিয়ে প্রশাসনের নিয়মিত টহল দেওয়ায় সম্ভব হচ্ছে না। তারা বড় বাজারগুলোতে বেশি নজর দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আসলে পাংশার বড় বড় বাজারগুলোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছি, ছোট ছোট বাজার গুলোর জন্য আমরা বেশি সময় দিতে পারছি না। মানুষকে তো আর গুলি করে মেরে ফেলতি পারি না। তারা টিভি ,পত্রিকা সব কিছুই দেখছে কিন্তু সচেতন হচ্ছে না। তারা পুলিশ প্রশাসনের সাথে টম এন্ড জেরি খেলা খেলছে। এই ব্যাপারে ওসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সে যা করার করবে।
এ ব্যপারে পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানউল্লাহর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, মোবাইল ফোনে কোন প্রকার বক্তব্য দিতে পারবেন না তিনি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
