কলারোয়া প্রতিনিধিঃ
কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীর সমাপনী ও বৃত্তির ফলাফল অনাকাঙ্খিত খারাপ হওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৃত্তিপ্রত্যাশী ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণ।
পৌরসদরের ঐতিহ্যবাহী এ স্কুলটি গেলো ২বছর বাদে বিগত বছরগুলোতে ভালো ফলাফল করে আসছিলো। জানা গেছে- উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের তুলনায় এই স্কৃুলের ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা যেমন বেশি তেমনি শিক্ষকদের পাঠদানের মানও সন্তোষজনক। সেই সাথে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও সামাজিক সচেতনতামূলক নানান কর্মকান্ডের কারণে অন্যতম। স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকরা ভালো মানের স্কুল হিসাবে তাদের মেধাবী ছেলে মেয়েদেরকে এই স্কুলটিতে পড়াশুনা করাতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। গত কয়েক বছরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল ও বৃত্তি লাভ করে আসছিলো। কিন্তু গেলো ২বছর বৃত্তির ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় আশার আলোয় নিরাশার ছোয়া লেগেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
সূত্র আরো জানায়- ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণিতে স্কুল পর্যায়ে যে সব ছাত্র-ছাত্রী ৯০/৯৫ এর উপরে নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সেই ছাত্র ছাত্রীরা ২০১৮ সালের সমাপনী ও বৃত্তি পরীক্ষায় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে ১০ হতে ১৫ নম্বর এবং ২০১৯ সালে ‘ইংরেজি’তে ১০ থেকে ২০ নম্বর কম পেয়েছে। তবে কলারোয়া উপজেলার অন্যান্য স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা ইংরেজিতে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে- এই স্কুলটিতে ২০১৭ সালে ‘এ প্লাস’ পেয়েছিল ৩৭ জন, মোট বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ২৯ জন। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ২০জন ও সাধারণ কোটায় ৯ জন। ২০১৮ সালে ‘এ প্লাস’ পেয়েছিল ৪০জন। কিন্তু ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে ১০ থেকে ১৫ নম্বর কম পাওয়ার কারণে বৃত্তির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২০জনে। এর মধ্যে ৯ জন ট্যারেন্টপুল ও ১১ জন সাধারণ কোটায়। ২০১৯ সালে এসে স্কুলটিতে ‘এ প্লাস’ প্রাপ্তদের সংখ্যা ৩৭ জন হলেও এবছর ইংরেজিতে ১০ থেকে ২০ নম্বর কম পাওয়ার কারণে বৃত্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। যার মধ্যে ৭ জন ট্যালেন্টপুল ও ৯ জন ছাত্র-ছাত্রী সাধারণ কোটায় বৃত্তি প্রাপ্ত হয়েছে।
তবে যেহেতু স্কুলের মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশি ও মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি সেহেতু এরূপ ফলাফল আশানুরূপ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃত্তিতে ভাল করতে না পারা ও ইংরেজিতে ২০১৯ সালের সমাপনীতে ১০থেকে ২০ নম্বর কম পাওয়া বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারছেনা ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা।
তারা বলছেন- যেহেতু ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২০জন ছাত্র-ছাত্রী অংকে শতভাগ নম্বর পেয়েছে সেখানে অন্তত ওই ২০জন ছাত্র ছাত্রীর নম্বর ইংরেজিতে ৯০ এর উপরে থাকাটা প্রত্যাশিত ছিলো।
মেধাবী ছেলে-মেয়েরা কোন কারসাজি কিংবা ঈর্ষান্বিত বা কোন ষড়যন্ত্রের বলির পাঠা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক।
বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, সচিব, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও)সহ সকলের সুদৃষ্টি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই বিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের সমাপনি ও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবকগণ।
এ বিষয়ে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান জানান- ‘অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। কোন কারসাজির বিষয় আমার জানা নাই। তবে স্কুলটির ২০১৯ সালের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল বিগত দিনের চেয়ে একটু খারাপ হয়েছে।’
কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফফর উদ্দিন বলেন- ‘ফলাফল একটু খারাপ হয়েছে আরও একটু ভাল হতে পারতো। তবে এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নাই।’ তিনি আরো বলেন- ‘৩ স্তরে খাতা দেখা হয়েছে। তাই অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
