রফিকুল ইসলাম বকুল মহেরপুর প্রতিনিধি ঃ
অমর একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি আমাদের অহংকারের গর্বের। ২১ শে ফেব্রæয়ারী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকার কথা থাকলেও মেহেরপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তা বাস্তবায়ন হয়নি আজও। ফলে অমর একুশে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা।
জেলা শিক্ষা অধিদপ্তর মেহেপুরের হিসাব অনুযায়ী জেলায় মোট ১৮১ টি মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ টি মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪৩টি, ২৪ টি মাদ্রাসার মধ্যে ৩টি ও ১৮ টি কলেজের মধ্যে ৬ টিতে শহীদ মিনার আছে। বাকি ১২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই। অথচ সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় শহীদ নির্মাণ করার নির্দেশনা থাকলেও ওই সকল প্রতিষ্ঠানেই আজো কোন শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। ফলে ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫২’র ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে ও মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ার দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ সংশ্লিষ্টদের।
বিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীরা জানায়,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করার দাবি শিক্ষার্থীদের। তা না হলে কষ্ট করে দুরে কোন শহীদ মিনারে বা বাশ কাট দিয়ে শহীদ মিনার তৈরী করে শ্রদ্ধা জানাতে হয় তাদের।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য সন্তানদের বোঝাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি এই অভিভাবকের।
শিক্ষার্থী অভিভাবক জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকলেও শীঘ্রই তা নির্মাণ করতে চান এই শিক্ষক।
শিক্ষক সজিবুল ইসলাম, শিক্ষক শহীদ মিনার জাতীয় সংগ্রামের একটি প্রতিক। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক বিজয় এবং এর পথ ধরে গণ আন্দোলন ও স্বাধীনতা এসেছে। অথচ স্বাধীনতার সুতিকাগার এই মেহেরপুরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এটা খুব দুঃখজনক। ইতহাস ঐতিহ্যের চর্চার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিৎ।
এনামূল আযীম, সহকারী অধ্যাপক (অবঃ), গাংনী সরকারী ডিগ্রি কলেজ।
সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ২০২১ সালের ২১ শে ফেব্রæয়ারীর আগেই মেহেরপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মেহেরপর জেলা প্রশাসক মোঃ আতাউল গনি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
