বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পরিচালিত হবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে। সে ক্ষেত্রে প্রথম সারির কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা মডেল অনুসৃত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ফি না নেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং শিক্ষার্থীর সুবিধা ও পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে ‘সমন্বিত ভর্তি’র গাইড লাইনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমন্বিত ভর্তি’র বিষয়টি সাধারণ মানুষের চাহিদা এবং জাতীয় ইস্যু। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চান। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইউজিসিতে ২৩ জানুয়ারি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর গতকাল সোমবার এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি ১৯৭৪ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোথাও সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করতে প্রতিবন্ধকতা আছে বলে মনে হয় না। বিষয়টি তাদের সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন করেই বাস্তবায়ন সম্ভব। যে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্বকীয়তা নিয়ে ভাবছে, এ ক্ষেত্রে তা বজায় রেখেই ভর্তি নিতে পারবে। সে পদ্ধতি থাকবে গাইডলাইনে। আমরা শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই একটি গাইডলাইন করতে চাই। সুযোগ থাকবে-কোনো শিক্ষার্থী যেন তার পছন্দের নিজ শহরে বা কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। আবেদনে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র শিক্ষার্থী নিজেই পছন্দ করবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার পর একটি মেধাক্রম প্রকাশ করা হবে। এই মেধাক্রম থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী ভর্তি নেবে। এতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার সুযোগ থাকবে না। একজন শিক্ষার্থী তার সুবিধার্থে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন একাধিক বিষয়ে পছন্দ অনুযায়ী আবেদন করতে পারে, সে সুযোগ দেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি মনে করে, তাদের এখানে ইংরেজিতে ভর্তির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি ও এইচএসসিতে ইংরেজি বিষয়ে জিপিএ-৫ থাকতে হবে, তা নির্ধারণ করেই মেধাতালিকা থেকে ভর্তি নিতে পারবে। মেধাতালিকার বাইরে কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। একজন শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেল, এরপর প্রার্থী নিজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবে। এর আগ পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে।
কমিশনের এই সদস্য আরও জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি নেওয়া হয়। এটা না নেওয়ার প্রস্তাব করছি। শিক্ষার্থী প্রতি পাঁচশ-ছয়শ টাকা সরকারের ব্যয় করার সামর্থ্য আছে। অর্থবছরগুলোয় সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বার্ষিক বরাদ্দ দেয়, তার সঙ্গে সামান্য কিছু অর্থ যোগ করেই ভর্তি পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। এতে ভর্তিচ্ছু পরিবারগুলো উপকৃত হবে। এ বিষয়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিমত করবে বলে মনে হয় না।
তিনি বলেন, একটি প্রচলিত কথা হয় যে ভর্তির আবেদন, পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা অনেক টাকা আয় করেন। বাস্তবে যে পরিমাণ টাকা একজন শিক্ষক আয় করেন এই কার্যক্রমে তা খুবই সামান্য। এটা মিডিয়ার প্রচার যে, ভর্তি পরীক্ষায় আয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি চায় না। একজন শিক্ষক ইচ্ছে করলে বছরে এই টাকার চেয়ে অনেক গুণ বেশি অর্থ আয় করতে পারেন গবেষণাসহ বিভিন্ন কনসালট্যান্সির মাধ্যমে।
ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কে করবে? ড. মুহাম্মদ আলমগীর জানান, আমরা চাই নিজ থেকে কোনো প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় যেন দায়িত্ব নেয়। পুরো প্রক্রিয়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর যে সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলো, তার অভিজ্ঞতার আলোকে হতে পারে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কী হবে, কোন শিক্ষকরা কোন প্রশ্ন করবেন, প্রশ্নের গোপনীয়তা, প্রশ্ন মডারেশন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন সব কিছুই আলোচনার মাধ্যমে একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। প্রশ্ন ফাঁস নিয়েও কোনো আশঙ্কা নেই। অনেক প্রশ্ন সেট থেকে পরীক্ষার শুরুর আগেই নির্ধারণ হবে পরীক্ষা কোন সেট থেকে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়মে এবং সময়ে। বিষয়ভেদে এই পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি এবং সময় থাকে ভিন্ন। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে চাইলে তাকে তিন রকমের প্রস্তুতি এবং সময় ব্যয় করতে হয়। অনেক সময় একই তারিখে পড়ে যায় একাধিক বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি পরীক্ষা। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে একটি ছেড়ে অন্যটিতে পরীক্ষা দিতে হয়। এসব জটিলতা দূর করার জন্য সময় এবং অর্থ ব্যয় কমানোর কথা চিন্তা করে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার কথা ভাবছে সরকার।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
