শেখ কোরবান আলী।।
আমরা বাংলাদেশীরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ জাতি। উহান করোনা ভাইরাস আতঙ্কে শুধু আমরা বাংলাদেশী নাগরিক না , বিদেশী নাগরিক সহ লক্ষ-কোটি চাইনীজরাও আছে । ভাইরাস টা মারাত্মক এটা ও অস্বীকার করার উপায় নেই। চাইনীজ সরকার অলরেডি উহান সহ অনেক গুলো শহর যাতায়েতের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে, কেউ যেনো শহরে ঢুকতে ও বের হতে না পারে। আমাদের নবীজির ও একই আদেশ ছিল, হাদিসে আছে কোন এলাকায় মহামারী শুরু হলে বাইরে থেকে কেউ জেনো ওই এলাকায় না যায় এবং যে ওই এলাকায় আগে থেকেই আছে সে জেনো পলায়ন না করে।
কিন্তু আমরা সবাই মহামারী আতঙ্কে চায়না ছেড়ে বাংলাদেশ চলে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত। অবশ্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নাই , আমার পরিবার, বন্ধুদের অনেকেও একই ভাবে আমাকে দেশে চলে যেতে বলতেছে। কিন্তু আমরা যদি একটু বাস্থবতা চিন্তা করি তাহলে আমাদের কারোরই এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস, বাসা, শহর থেকে বের না হউয়া উচিত কারণ বাইরে বের হলেই মানুষের মধ্যে যেতে হবে। যারা দেশে যেতে চাচ্ছেন, একটু ভেবে দেখেন আপনি দেশে যাওয়ার সময়ে আপনি রেল স্টেশন, এয়ারপোর্ট ব্যবহার করবেন । সেখানে অনেক মানুষ থাকবে, সেখান থেকেও আপনি আক্রান্ত হতে পারেন।
আল্লাহ্ না করুক আপনি যদি আক্রান্ত হয়ে দেশে যান, তাহলে বাংলাদেশে এটার কোন চিকিৎসা পাবেন না আর এটা ছড়িয়ে পড়বে আপনার নিজের পরিবারের সদস্যের মধ্যে। বাংলাদেশে কিছুদিন আগে ডেঙ্গুতে কি অবস্থা হলো সেটা আমাদের সবারই জানা। চিকিৎসার খরচের কথা নাই বললাম, চায়না থাকলেতো আপনি যদি ভাইরাসে আক্রান্তও হন আপনি ফ্রিতে চিকিৎসা করাতে পারবেন যেটা বাংলাদেশে হয়তো নাও হতে পারে।
চাইনীজ সরকার যেভাবে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশে সেটা চিন্তা ও করা যায়না! মাত্র ৬ দিনের মধ্যে ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল তৈরি করতেছে। কয়েক হাজার সেনা সদস্য মোতায়ন করছে। চায়নার অন্য শহরগুলো থেকে উহানে এই ভাইরাস মোকাবেলার জন্য স্পেশালিষ্ট ডাক্তার নিয়ে আসছে।চায়নার বড় বড় কোম্পানি গুলোও সরকারকে অর্থ এবং মালামাল দিয়ে সহযোগিতা করতেছে।
বাংলাদেশের মিডিয়া এবং অনেকেই ধারণা করছেন বাংলাদেশীরা যারা উহানে আটকে আছে তাদের খাদ্যের সংকট হবে। এটা একটা ভুল ধারণা। সরকার যেহেতু মানুষকে বাঁচানোর জন্যই এতকিছু করতেছে নিশ্চয়ই সরকার মানুষকে না খেতে দিয়ে মেরে ফেলবে না। আর যদি পুরো চায়নাতে খাদ্যের সংকট হয় কেবলমাত্র তা হলেই উহানে খাদ্যের সংকট হতে পারে।শুধুমাত্র উহানে খাদ্যের সংকট হবেনা। যেহেতু চায়নাতে এখন চাইনীজ নতুন বছরের বন্ধ চলছে সেহেতু খাবারের সরবরাহ কম আছে এবং এই সময় অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকে।দোকানপাট যাও খোলা আছে তা আবার চাহিদার তুলনায় অনেক কম, তাই দাম একটু বেশি। আমার পরামর্শ থাকবে একটাই সেটা হলো ধৈর্য আর আল্লাহ্র উপর ভরসা করে দোয়া করা।
পরিবারের উচিত হবে বেশি করে কিছু টাকা পাঠান যেন কিছু বেশি খাবার কিনে মজুত করে রাখতে পারে।আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধৈর্য্যের সাথে এই করোনা ভাইরাসের মহামারী মোকাবেলা করার তৌফিক দান করুক। আমীন !
লেখক : চেয়ারম্যান, মালিশাএডু ইন্টারন্যাশনাল
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
