নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দুই যুগ আগে ভয়াবহ বোমা হামলার স্মৃতি মাথায় রেখে রাজধানীর রমনা বটমূলে এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে সংঘটিত সেই হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবারও কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রমনা বটমূলসহ আশপাশের পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে বাঁশের ব্যারিকেড, পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার এবং কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, নববর্ষ উপলক্ষে পুরো রাজধানীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে সুইপিং করা হবে।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজুড়ে বসানো হবে একাধিক ব্যারিকেড। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে। ড্রোন, সিসিটিভি ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সারোয়ার নিরাপত্তা মহড়া পরিদর্শন শেষে জানান, “নির্দিষ্ট কোনো হুমকি না থাকলেও সতর্কতায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। সবাই যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম কাজ করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে সাইবার পেট্রোলিং।
ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়ে ৮টা ২৫ মিনিটে শেষ হবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। নারী, পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য আলাদা গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে শোভাযাত্রা। পুরো রুটজুড়ে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভোর ৫টা থেকে শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট ও নীলক্ষেতসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হবে।
র্যাবের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মোটরসাইকেল টহল ও পিকআপ টহল জোরদার করা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, দাহ্য পদার্থ, ধারালো বস্তু, ফানুস, আতশবাজি ও শব্দ দূষণকারী সরঞ্জাম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে প্রবেশ বন্ধ থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খোঁজে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তারা।
সবমিলিয়ে, দুই যুগ আগের দুঃসহ স্মৃতিকে সামনে রেখেই এবারও নিরাপত্তার কঠোর বলয়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।
শিক্ষাবার্তা /এ/ ১৩/০৪/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
