এইমাত্র পাওয়া

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘জ্বালানী ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী টুকু নাস্তিক

নিউজ ডেস্ক।। 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। তিনি জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী—না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।”

জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, ‘এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে—আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে তারেক রহমানের যে নামগুলো বাংলাদেশে ছড়ানো হয়েছে, বিশ্ববাসী তা জানে। এই টুকুর কারণেই। কারণ একই জায়গায় তিনি আগেও মন্ত্রী ছিলেন। তিনি দায়িত্ব পেলে কী ধরনের হাহাকার তৈরি হয়, তা দেখতে চাইলে তেল পাম্পে যান।’

আমির হামজা আরো বলেন, ‘আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন। মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।’

এদিকে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এইতো সে‌দিন মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জ হাসপাতাল চালু নি‌য়ে বল‌লেন ৩ দি‌নে ৫০ লাখ টাকার অফার পে‌য়ে‌ছেন। অথচ তা‌কে কারা টাকার অফার ক‌রে‌ছে তা‌দের নাম খোলাসা কর‌ছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। আমা‌দের দ‌লের নেতা‌দের নি‌য়ে আমির হামজা এমন মন্তব‌্য কর‌তে পা‌রেন না। তাকে সংযত হওয়ার আহব্বান জানা‌চ্ছি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.