এইমাত্র পাওয়া

কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টানতে ১০ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য প্রতিরোধে প্রণীত ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে ১০ সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের এক আদেশে বেসরকারি কোচিং সেন্টার পরিচালনা-সংক্রান্ত এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের আদেশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরিচালিত কোচিং ব্যবসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান ও অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। এ বাস্তবতায় ২০১২ সালের নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, কোচিং সেন্টার তদারকি এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পদাধিকারবলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমানকে কমিটির সভাপতি এবং কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এছাড়া পদাধিকারবলে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন— রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (হেলেনাবাদ), শিরোইল কলোনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ।
উপ-কমিটির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মামুন শিক্ষাবার্তাকে বলেন, “রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত।

এখানে শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়েই পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা লাভ করুক এবং অতিরিক্ত কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল না হোক।”

তিনি আরও জানান, কমিটি নিয়মিত মনিটরিং করবে, অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই করবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে কম চাপের পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদান প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

অভিভাবক মহলেও এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, কোচিং নির্ভরতার সংস্কৃতি কমাতে হলে বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের কোচিং সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। নতুন এই উপ-কমিটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বাস্তব অগ্রগতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রাজশাহীকে ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে তার ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে প্রশাসনের এ পদক্ষেপ সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।

শিক্ষাবার্তা /এ/২০/০২/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.