এইমাত্র পাওয়া

অধ্যক্ষ সেলিম ভুইঁয়ার পক্ষে প্রতিনিধি দল:স্কুলের ছুটির প্রজ্ঞাপন কাল-পরশু

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

মাধ্যমিক পর্যায়ে পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য। সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুইঁয়ার পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ডিজি অফিসে এ স্মারকলিপি প্রদান করে।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ, ড. মুহাম্মদ সৈয়দুজ্জামান, শাহনাজ পারভীন, মো. আলমগীর হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত, সংযম ও আত্মশুদ্ধির সময়। এ মাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জীবনযাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় রোজা রেখে স্বাভাবিক সময়সূচিতে ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীত বছরগুলোতে রমজানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দৃষ্টান্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রমজানে ছুটি ঘোষণা করা উচিত। অন্যথায় ক্লাসে উপস্থিতি কমে যাওয়া, শিক্ষার মানে প্রভাব পড়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুগ্ম মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান বলেন, “আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছি—রমজানে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। শিক্ষার্থীদের স্বার্থই এখানে মুখ্য বিষয়। রোজার মাসে সংক্ষিপ্ত সময়সূচিও অনেক সময় কার্যকর হয় না।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য কোনো সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত চায়। “সরকার অতীতেও শিক্ষকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে। এবারও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছি,” যোগ করেন তিনি।

মাউশির পরিচালক ড. সোহেল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ রমজানে ছুটি থাকবে—এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তাঁর এ আশ্বাসে প্রতিনিধি দলের নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, রমজানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দূরবর্তী এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কষ্ট হবে। এছাড়া ইফতার ও তারাবির নামাজসহ ধর্মীয় অনুশীলনের সময়সূচিও বিঘ্নিত হতে পারে।

তারা আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানবিক ও বাস্তবসম্মত রাখাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, মনোযোগ ও পারিবারিক পরিবেশ বিবেচনায় রমজানে পূর্ণাঙ্গ ছুটি বা অন্তত দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপি প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক ঘোষণা না এলে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তবে আপাতত তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ রমজানে ছুটির পক্ষে মত দিচ্ছেন বলে সংগঠনটির দাবি। তাদের মতে, শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাস করে রমজানের ছুটি সমন্বয় করা সম্ভব।

সবমিলিয়ে রমজানে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং কাল পরশু প্রজ্ঞাপন জারি হবে ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষাবার্তা /এ/১৫ /০২/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.