এইমাত্র পাওয়া

বন্দর সচল না হলে হার্ডলাইনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক।।

ধর্মঘটের ষষ্ঠ দিনে গতকালও অচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। তিনটি টার্মিনালে আমদানি পণ্যবাহী জাহাজ আসতে পারেনি। জেটি থেকে বের হতে পারেনি কোনো জাহাজ। বন্ধ ছিল পণ্য খালাস ও ডেলিভারি। কাল (আজ) থেকে বন্দর পুরোপুরি সচল না হলে এবং যারা কাজ করতে চায় তাদের বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌ উপদেষ্টা। ধর্মঘটের কারণে রমজানের ভোগ্যপণ্য এবং এভিয়েশন ফুয়েল খালাস করা যাচ্ছে না-এমন তথ্য জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এেিদক গতকাল সকালে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আলোচনার জন্য বন্দর ভবনে গেলে তোপের মুখে পড়েন।

তাঁর গাড়ির বহর আটকে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময়ও শ্রমিক-কর্মচারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তারা ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিপ্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা নিরসনে ১০টি ব্যবসায়ী সংগঠন গতকাল যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বেশি পণ্য হ্যান্ডলিংকারী টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার থেকে টানা দুই দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। সময়সীমা আরও বাড়িয়ে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের পর বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়।

দুই দিনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, ‘নৌ উপদেষ্টা আমাদের কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। রমজানের ভোগ্যপণ্য যাতে খালাস হতে পারে সেজন্য আমরা শুক্র (আজ) ও শনিবার কর্মবিরতি স্থগিত করেছি। এর মধ্যে আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে রবিবার থেকে ফের কর্মবিরতি চলবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থায় নিরসনে ১০ ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ বিবৃতি : চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সৃষ্ট মহাবিপর্যয় নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ১০ বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি মো. আবদুল হামিদ ও বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাহাজ চলাচল পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্দর এক দিন বন্ধ থাকা মানে অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি। সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এনসিটি ইজারা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন সরকার পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ রাখতে পারে। কিন্তু তার জন্য বন্দর অচল রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.