এইমাত্র পাওয়া

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কমিটির হস্তক্ষেপে লাগাম

নিউজ ডেস্ক।। 

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি ও গভর্নিং বডির অযাচিত হস্তক্ষেপ কমাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় স্পষ্টভাবে পরিচালনা কমিটির এখতিয়ার সীমিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে কমিটির অন্যায্য প্রভাব কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা কমিটির চাপের মুখে কাজ করা শিক্ষকদের জন্য এটি স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা। তাছাড়া প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা।

সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া আইনের ২২ ও ২৩ ধারায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও পরিচালনা কমিটির গঠন, কার্যপরিধি এবং সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। খসড়া শিক্ষা আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে- সব ধরনের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্তর অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। তবে এসব কমিটির গঠন, মেয়াদ ও কার্যপরিধি নির্ধারিত হবে বিধি দিয়ে। আরেকটি পরিবর্তন এসেছে ২৩ ধারায়, সেখানে বলা হয়েছে- ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটি কিংবা তাদের চেয়ারম্যান বা সভাপতি এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসন বা পাঠদানে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। এ ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক অনিয়ম সৃষ্টি হলে বা পাঠদান ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্ট কমিটি বা সভাপতি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন।

প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ কমিটি বাতিল বা সভাপতিকে অপসারণ করতে পারবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, আইনটি প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষাকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে এ শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় সমস্যা ছিল পরিচালনা কমিটির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ। নতুন আইনে সেই জায়গায় পরিষ্কার সীমারেখা টানা হয়েছে, যা শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য স্বস্তির।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) সেক্রেটারি মো: জাকির হোসেন  বলেন, অনেক সময় সভাপতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই শেষ কথা হয়ে দাঁড়াত। নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা সবকিছুতেই অযাচিত হস্তক্ষেপ ছিল। আইনগতভাবে সীমা নির্ধারণ হওয়ায় শিক্ষকরা এখন পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ বোধ করবেন।

শিক্ষাবিদরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পরামর্শক কমিটি প্রধান শিক্ষাবিদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় পরিচালনা কমিটির ভূমিকা নীতিনির্ধারণী ও তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। প্রশাসন ও একাডেমিক সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ওপর ছেড়ে দেওয়াই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা। খসড়া আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর আগে নতুন পাঠ্যবইয়ে জুলাই ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান যুক্ত হলেও এবার তা সরাসরি আইনি ভিত্তি পাচ্ছে।

নতুন শিক্ষা আইনে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আগের মতোই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতেই রাখার কথা বলা হয়েছে। খসড়া আইনের ১৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নির্বাচন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন এনটিআরসিএর মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাও থাকবে সংস্থাটির হাতে।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০২৬-কে ১১টি অধ্যায় ও ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। জনমত গ্রহণের জন্য আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে ড়ঢ়রহরড়হথবফঁথধপঃ@সড়বফঁ.মড়া.নফ ঠিকানায় খসড়া আইনের ওপর মতামত পাঠানো যাবে। জনমত গ্রহণ শেষে এটি চূড়ান্ত করে পাঠানো হবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.