নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ৬০ নম্বর লিখিত অথবা এমসিকিউ এবং বাকি ৪০ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও ভাইভা থেকে নেওয়া হবে।
জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিতব্য এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সভায় এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, তিন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ বিধিতে ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নম্বর থাকবে লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষায় এবং অবশিষ্ট ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ নম্বর মৌখিক (ভাইভা) ও ২০ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও দৈনন্দিন বিজ্ঞানের পাশাপাশি আরও দুটি বিষয় যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অতিরিক্ত দুটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে—আর্থিক বিধিবিধান এবং প্রশাসনিক নিয়ম-কানুন। সব মিলিয়ে সাতটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য আর্থিক বিধিবিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর্থিক নিয়ম না জানলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই খসড়া বিধিতে নতুন দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, খসড়া বিধি নিয়ে কোনো আপত্তি বা সংযোজন-বিয়োজন প্রয়োজন আছে কি না—তা জানতে আগামীকালের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী স্টেকহোল্ডার ও শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হবে। কর্মশালা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
খসড়া বিধি অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এনটিআরসিএ। সর্বশেষ জারিকৃত এমপিও নীতিমালা অনুসারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শূন্য পদের চাহিদা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে এনটিআরসিএর কাছে পাঠাতে হবে।
শূন্য পদের চাহিদা যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হবে। পরীক্ষার নম্বর বণ্টন ও সময়সূচি নির্ধারণ করবে এনটিআরসিএ। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীদের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পদভিত্তিক শূন্য পদের তিন গুণ সংখ্যক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শূন্য পদের সমসংখ্যক প্রার্থীর একটি প্যানেল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত সব পরীক্ষার ফলাফল ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এনটিআরসিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
