নাটোরঃ নাটোরের লালপুরে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নার্গিস সুলতানার বিরুদ্ধে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় মেলায় পিঠা উৎসব বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক স্কুল থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, এতে চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
জানা যায়, লালপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১৭-১৮ ডিসেম্বর ২ দিনব্যাপী আয়োজিত বিজয় মেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি পিঠাপুলির স্টল বসানো হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরসহ একাধিক দপ্তর এ মেলায় অংশ নেয়। একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে পরিচালিত পিঠা স্টলের জন্য উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস সুলতানার নির্দেশে।
এছাড়াও নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নার্গিস সুলতানা তিনি নিজ স্টেশনে থাকেন না অফিসে আসেন সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় এবং ৩ টায় অফিস ত্যাগ করে নিজ বাড়ি পাবনা চলে যায়, শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আরো বলেন স্লিপের টাকার বিল পাস করার জন্য প্রতি স্কুলকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দেওয়া লাগে।
উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিসার অফিস সহায়ক বুলবুলিকে বেতন দেওয়ার জন্য প্রতিটি স্কুল থেকে মাসে ৫০ টাকা অথবা বছরে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়, শিক্ষকরা বলেন শিক্ষা অফিসের স্যারদের চা-নাস্তা দেওয়ার কাজ করে বুলবুলি আমরা কেন তার বেতন দিব।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক তৈমুর রহমান শিক্ষকদের কোন কাজ অথবা ফাইল নিয়ে আসলে টাকা ছাড়া তিনি কাজ করেন না প্রতিটি ফাইল বা কোন কাজ তিনি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিলে করে দেন টাকা না দিলে পড়ে থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নার্গিস সুলতানা অভিযোগকারী শিক্ষকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তদের যদি লড়ার শখ থাকে সামনাসামনি লড়ুক, এবং অভিযোগের বিষয়ে তিনি সবকিছু অস্বীকার বলেন, এখানে কিভাবে কি হয়েছে আমি জানিনা। তিনি আরও বলেন, অফিস সহায়ক আমি আসার আগ থেকেই এখানে রাখা হয়েছে। আমিও তাকে মাসে ১০০ টাকা করে দিই। তবে শিক্ষা অফিসারের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন একাধিক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিসারের নিয়ন্ত্রণে চাকরি করতে হয়। তাই মুখ খুলতে পারি না। পিঠা উৎসবের এই চাঁদা মূলত শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তেই ধার্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষককে চাঁদা দিতে না হয় এবং সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এরকম ঘটনা দুঃখজনক, তাদেরকে স্টল দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি তারা স্বপ্রণোদিতভাবে এসেছে, বিষয়গুলো আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. আব্দুল হান্নান বলেন আমি খোঁজ নিবো এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইবো।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৯/১২/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
