আল আমিন হোসেন মৃধা: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির আন্দোলন করে ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়ার প্রজ্ঞাপন আদায় করে আলোচনায় আসা এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গতকাল ৩০ নভেম্বর অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠি ইস্যু করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় মিনিস্ট্রি অডিটের নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় করার অভিযোগ তোলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।
অধ্যক্ষ আজিজী অভিযোগ করেন, ডিআইএর বিরুদ্ধে ঘুস দুর্নীতির এই অভিযোগ করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এই তদন্তের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। আর তদন্তের প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। একই সাথে আগামী বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবনে অবস্থিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচীও ঘোষণা করা হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।
কর্মসূচী ঘোষণা করে অধ্যক্ষ আজিজী তার ফেসবুকে লেখেন, “আমার প্রতিষ্ঠানে অডিট হয়েছে ২০১৯ সালে। স্বাভাবিকভাবে অডিট হলে আরও ৫-৭ বছর পরে অডিট হওয়ার কথা। অডিট হলে একসাথে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অডিট হয় এবং ১/২ জন কর্মকর্তা আসেন। আর এখানে শুধু আমার প্রতিপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে এবং ৪জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরা আসলে আমার প্রতিবাদী কণ্ঠকে চেপে ধরে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করতে চায়।”
তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বলছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব এবং ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলাধীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজির বিরুদ্ধে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৩ আগস্ট ২০২৫ ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আতাউর রহমান এই অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে এই তদন্ত এবং একই চিঠিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করার কথা উল্লেখ করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ অডিট ও পরিদর্শনের সময় যদি তিন থেকে চার বছর অতিক্রম করে তখন তদন্তের সাথে সাধারণ অডিটও করা হয়। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।
অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগে তদন্ত
কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আতাউর রহমান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দেলোয়ার হোসেন আজীজির একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সের ডিগ্রি অর্জন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ফাজিল ডিগ্রি অর্জন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। যা বিধিবহির্ভূত। একই সময়ে সমমান একের অধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ নেই।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “দেলোয়ার হোসেন ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হন এবং ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সের প্রতি বৎসরের সকল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে বিএ অনার্স পাশ করেন। অতঃপর তিনি ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ২০০৯ খ্রিঃ এমএ পাশ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ভুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং দূর্নীতির মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা এবং চট্টগ্রাম জেলার দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে ২০০৩ সনের ফাযিল পরীক্ষার ও ২০০৫ সনের কামিল পরীক্ষার সনদ অর্জন করেন। তার ফাযিল ও কামিলের সনদের ধরণ নিয়মিত। মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এর একই সময়ে অর্থাৎ ২০০১-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে সরকার স্বীকৃত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ও দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকা বৈধ নয় বিধায় তার ফাযিল ও কামিল উভয় সনদ অবৈধ। তিনি উক্ত দু’টি অবৈধ সনদ দিয়ে ১৯ বৎসর ধরে মাদ্রাসায় চাকুরী করছেন তিনি।”

অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ”মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নকালে ২০০৬ সনে নরসিংদী জেলার দশদোনা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় অবৈধ সনদ দিয়ে আরবি প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে গত ০১ জুলাই ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে এমপিওভূক্ত হয়ে (ইনডেক্স নং-২০১৯৯০৫) দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ উত্তোলন করেন। ফলে কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী তার ১৫ বছরের বৈধ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নেই। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা দুটোতেই দুর্নীতি।’

এছাড়াও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, ‘কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসাটি দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল পরীক্ষার কেন্দ্র এবং অধ্যক্ষ হলেন কেন্দ্র সচিব। অধ্যক্ষ কেন্দ্র সচিব হয়ে ২০২৩, ২০২৪, ও ২০২৫ সনের কামিল ও দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র ফির অতিরিক্ত ৫০০/- টাকা এবং ৭০০/- টাকা করে বিনা রশিদে ৪,৬৪,৫০০/- টাকা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেছেন। উক্ত ৪,৬৪,৫০০/- টাকা আদায়ে কেন্দ্র কমিটির কোন রেজুলেশন নেই। অধ্যক্ষ একক সিদ্ধান্তে উক্ত টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন। উক্ত ৪,৬৪,৫০০/- মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া প্রয়োজন।’
অধ্যক্ষ পদেও জালিয়াতি করে নিয়োগ পান আজিজী অভিযোগে উল্লেখ করে অভিযোগকারী লেখেন, ‘মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রকৃত তথ্য গোপন করে ২০২২ সনে ময়মনসিংহের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ এনামুল হককে এলাকার লোক হিসেবে পক্ষে নিয়ে স্বজন প্রীতির মাধ্যমে কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেছেন। অধ্যক্ষ পদের নিয়োগে ৩০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন মাত্র সাড়ে বার নম্বর যার শতকরা হলো ৪১.৬% অর্থাৎ তৃতীয় বিভাগ। তাকে আট নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় দেয়া হয়েছে ছয় নম্বর অর্থাৎ ৭৫%। জেলা প্রশাসক মহোদয় একই এলাকার লোক হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষায় তাকে সর্বোচ্চ নম্বর দিয়ে প্রথম করা হয়েছে। অন্য দিকে অধ্যক্ষ পদে মেধাবী প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রটি কোডিং হয়নি। ফলে উত্তরপত্রটি চিহ্নিত হওয়ায় উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য তাকে কম নম্বর দেয়া হয়েছে। তার উত্তরপত্রটি পুনঃমুল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। কম নম্বর দেয়ার পরেও আব্দুল্লাহ আলমাহমুদ লিখিত পরীক্ষায় সাড়ে তের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। কিন্তু স্বজন প্রীতির জন্য মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেছেন। উল্লেখ্য, নিয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড. মোঃ আবুল কালাম আজাদ যিনি নিয়োগ পরীক্ষার ১৫ নম্বরের প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, লিখিত পরীক্ষার ১৫ নম্বরের উত্তরপত্র মুল্যায়ন করেছেন। তিনি নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ব তারিখে অধ্যক্ষ পদের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে তার সাথে সাক্ষাত করার জন্য মোবাইল করেছেন যার সকল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ব তারিখে নিয়োগ কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য একজন প্রার্থীকে সাক্ষাত করার জন্য ফোন করতে পারেন না। সৎ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার সাথে সাক্ষাত করতে
অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তা ম্যাসেজে জানিয়ে দেন। অধ্যক্ষ পদের লিখিত পরীক্ষার অর্ধেক প্রশ্ন জেলা প্রশাসক করেছেন এবং তিনি অর্ধেক উত্তরপত্রও মুল্যায়ন করেছেন। বাকী সদস্যগণের কোন ভূমিকা ছিলনা। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে নিয়োগ পরীক্ষার সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়বে।’
এর আগেও অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দুইবার ৩ হাজার টাকা অভিযোগ ফি বাবদ ব্যাংকে জমা দিয়ে কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আতাউর রহমান লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তবে সেই অভিযোগ আমলে নেয়নি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

অভিযোগের আলোকে তদন্তের চিঠি ইস্যুকে কেন্দ্র করে কর্মসূচী ঘোষণা করার বিষয়ে জানতে চেয়ে অধ্যক্ষদেলোয়ার হোসেন আজিজীর মুঠোফোনে কল করলে সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলাধীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আমাদের দপ্তরে তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হচ্ছে। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম ৩ থেকে চ৪বছর হলেই আমরা আবার পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করি। কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অডিট হয়েছে সেই ২০১৯ সালে সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে রেগুলার অডিটের সময় হয়েছে। যেহেতু তদন্ত যাচ্ছে সে জন্য আমরা তদন্তের সাথে নিয়মিত অডিট করার আদেশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, এরকম একাধিক অফিস আদেশ পাবেন যেখানে তদন্তের সাথে সাধারণ অডিট দিয়েছি আমরা। এখানে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নাই। কেউ যদি ব্যক্তিগত বিষয় আড়াল করতে একটি শিক্ষক কমিউনিটিকে ব্যবহার করে সেটা দুঃখজনক। এই অধ্যক্ষের কিছু বলার থাকলে আমাদের কাছে এসে বলতেন। আমরা আমাদের নীতিমালার আলোকেই আমাদের এই কার্যক্রম চালাচ্ছি। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্যকে বাদ দিয়ে অবৈধ পন্থায় খন্দকার মাহবুবুল আলম নামের একজনকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে এডহক কমিটি করার অভিযোগ ওঠে। প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য মুহাম্মদ আতাউর রহমান এ নিয়ে মামলা দায়ের করার পর আদালত (এপ্রিল-২০২৫) কমিটির কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একইসঙ্গে কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমকে শোকজ করে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
