বরিশালঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেটের ১০ কোটি টাকা কর্তন হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তিতে ববি কর্তৃপক্ষকে সংশোধিত বাজেট দিতে হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দক্ষতা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
অস্বাভাবিক ব্যয়ের খাত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে অডিট টিম পর্যবেক্ষেণে উল্লেখ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে কমে হয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। বরাদ্দ আটকে দেওয়া উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হচ্ছে– অনুমতিহীন দৈনিক মজুর কর্মচারীদের জন্য ৮৪ লাখ টাকা, বিআরটিসি বাস ভাড়া বাবদ এক কোটি ৭২ লাখ, আবাসিক ভবন ভাড়া বাবদ ১৪ লাখ ৫০ হাজার, আউটসোর্সিং বাবদ ১০ লাখ, শ্রমিক মজুরি আট লাখ, আনসার নিয়োগ ৯০ লাখ, পরিবহন ব্যয় দুই কোটি ৭৬ লাখ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম বাবদ ২১ লাখ টাকা।
ববির অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির তিন সদস্যের বাজেট অডিট টিম গত ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। তাদের আপত্তিতে ববির বাজেট ওয়ার্কিং কমিটি জবাব দিয়েছিল। তবে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। বাড়তি বাজেট দেখানোয় ক্ষুব্ধ হয় ইউজিসি প্রতিনিধি দল।
এ বিষয়ে ববির অর্থ দপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আতিকুর রহমান বলেন, এ বছর কেন প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে গেল, তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
ইউজিসির বাজেট শাখার উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে ববি কর্তৃপক্ষের অবহেলা আছে। কয়েকটি খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আরও কাজ চলবে। সরকারি নিষেধ সত্ত্বেও অনেক খাতে বরাদ্দ নিয়েছে। অনাপত্তিপত্র ছাড়া দৈনিক মজুর কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিছু খাতে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনে পরবর্তীতে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সুজয় শুভ বলেন, ববিতে বরাদ্দ অর্থে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা অসম্ভব। বরাদ্দ থেকে ১০ কোটি টাকা কমে যাওয়া প্রশাসনের ব্যর্থতা ও অদক্ষতার প্রতিচ্ছবি। অযোগ্য লোক থাকায় তারা ইউজিসির বাজেট কমিটিকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ফোন না ধরায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/৩০/১০/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
