এইমাত্র পাওয়া

দুই সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ফোন চেক করার অভিযোগ ঢাবি ছাত্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই ছাত্র প্রতিনিধিসহ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রক্টর অফিসে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের (সিএসই) ছাত্র আবির হাসান এ অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি সমকালকে বলেন, একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রক্টর অফিসে দুজন প্রক্টর শিক্ষক আধা ঘণ্টা ধরে আমার ব্যক্তিগত ফোন চেক করে, আমার রাজনৈতিক পরিচয় বের করার চেষ্টা করেন। যেটা সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন।

আবির হাসান বলেন, আমি যদি সঠিক বিচার না পাই, তাহলে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য আইনের দ্বারস্থ হব। হাইকোর্টে যাব। আমি এখানকার শিক্ষার্থী, আমাকে কি সন্ত্রাসী মনে করেছে কিনা। পুলিশও কারও ফোন চেক করতে কয়েক ধাপ পেরোতে হয়। ডিউ প্রসেস মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে ফোন চেক করতে হয়।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমি সদস্য পদে ডাকসু নির্বাচন করে তিন হাজার ভোট পেয়েছি। মোটামুটি সবাই চেনে, ক্যাম্পাসে অ্যাক্টিভিজম করি। তিনি (সহকারী প্রক্টর) কক্ষে ঢুকে বললেন, তোমাকে তো চিনি, তোমার রাজনৈতিক পরিচয় কী? ফোনটা দাও দেখি। ফলে তিনি তো আমার রাজনৈতিক পরিচয়ও জানার চেষ্টা করেছিলেন।
আবির হাসান জানান, শাহবাগে প্রবেশপথে চেক করার সময় তাঁর সঙ্গে প্রক্টরিয়াল টিমের ঝামেলায় জড়িয়ে তাঁকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসে এ ঘটনা ঘটে।

এ দিকে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে শাহবাগ চেকপোস্টে প্রবেশের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল মোবাইল সিকিউরিটি টিমের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় এবং তার কাছ থেকে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করে যে, তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দুজন সহকারী প্রক্টর পরীক্ষা করেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একটি চার সদস্যবিশিষ্ট সত্যানুসন্ধান তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিবুর রহমান রনি এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নূমান আহমেদ চৌধুরীকে রাখা হয়েছে।
সত্যানুসন্ধান তদন্ত কমিটিকে ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, কমিটির প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিব।

শিক্ষাবার্তা /এ/২৮/০৯/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading