নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও আর্থিক ক্ষমতা পেয়েছেন প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান। তিনি মাউশির কলেজ ও প্রশাসন ইউংয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বৃহস্পতিবার তাঁকে আর্থিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-এর মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) পদে কর্মরত প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান-কে ট্রেজারী ও সাবসিডিয়ারী আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-এর মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মাউশি ডিজি অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে ওএসডি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।এর আগে গত ৬ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৬তম এবং তদূর্ধ্ব ব্যাচের কর্মকর্তাদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্তসহ অফলাইনে আবেদন করার জন্য বলা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা সচিব বরাবর আবেদন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। অব্যাহতির আবেদনে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাস্থ্যগত কারণে দেখান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অধ্যাপক আজাদ আপাদমস্তক একজন সৎ ব্যক্তি। নজিরবিহীন ডিজি নিয়োগের এই বিজ্ঞপ্তিতে সৎ ও দায়িত্বপরায়ণ উল্লেখ করায় তিনি পদত্যাগ করেন।
আবেদন আহ্বান করার পর বিসিএস সাধারণ শিক্ষার ১৪ ও ১৬ তম ব্যাচের ৬১ জন কর্মকর্তা আবেদন করে যার অধিকাংশই আওয়ামী সরকারের আমলে সুবিধাভুগী ও বিতর্কিত ব্যক্তি। এছাড়া অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
গত রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) সৈয়দ মামুনুল আলম, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) বেগম বদরুন নাহার এবং অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. মজিবর রহমান।
গত বছরের ডিসেম্বরে মাউশি মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক এ বি এম রেজাউল করীম। তিনি অবসরে যাওয়ার পর গত ৩০ জানুয়ারি এ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন রসায়নের অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আওয়ামী লীগের ভোল্ট পাল্টিয়ে এন্ট্রি আওয়ামী লীগ সাজার চেষ্টা করা, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহার হওয়া ও বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অনুচর হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. এহতেসাম উল হককে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে পদায়ন পান অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। এ নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ডিজি পদে পদায়ন পাওয়ার পরে ‘শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিই মাউশির নতুন ডিজি‘ শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। তারপর বিএনপির শিক্ষক সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে ডিজির প্রত্যাহারের দাবিতে। পরে দাবির মুখে নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তখন তাঁকে ওএসডি করা হয়। এরপর জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে মাউশির নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল