নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মাউশির সাধারণ প্রশাসনের এক কর্মচারীকে মাধ্যমিক উইংয়ের সংযুক্ত কর্মকর্তা দাবি করে মাধ্যমিক পর্যায়ের বদলিতে টাকা আদায় করছে মর্মে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাওর তৈরি করে মাউশিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলে খোঁজ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে ঐ কর্মচারীকে শোকজ করেছে মাউশির সাধারণ প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসনের অফিস সহায়ক মো: মিরাজুল ইসলাম (মিরাজ) মাউশির মাধ্যমিক উইং থেকে বদলিকৃত বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি হলে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছেন। এছাড়াও নতুন বদলি করে দেবেন বলেও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ৬০ হাজার টাকাকে ৬০ এবং ২০ হাজার টাকা ২০ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে বিকাশ/নগদে এই অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। নতুন বদলি হওয়া শিক্ষক কর্মচারীদের বদলি হলেও তাকে টাকা না দিলে সমস্যা হবে বলে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে মিরাজ মাউশির সাধারণ প্রশাসনের কর্মচারী হলেও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে তাকে মাউশির মাধ্যমিকের সংযুক্ত কর্মকর্তা দাবি করা হচ্ছে। মাধ্যমিক উইংয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলছেন, অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের তদবির আমলে না নিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে মাধ্যমিকের উইংয়ের বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। মাউশির মাধ্যমিক উইংকে বিতর্কিত করতে সাধারণ প্রশাসনের এক কর্মচারীকে মাধ্যমিক উইংয়ের সংযুক্ত বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা কিছু স্ক্রিনশট শিক্ষাবার্তা’র হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, “01734-145365” এই মোবাইল নম্বর থেকে বদলি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং বদলি হতে আগ্রহীদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর বিকাশ দিয়ে টাকা চাচ্ছেন তিনি। তবে এই মোবাইল নম্বর ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করলেই ফোন রিসিভ করেননি মিরাজুল।
বিষয়টি মাউশির সাধারণ প্রশাসনের নজরে আসার সাথে সাথেই মিরাজুলকে শোকজ করা হয়েছে। আজ বুধবার মাউশির সাধারণ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মোঃ খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত মিরাজুলকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “আপনি, জনাব মো: মিরাজুল ইসলাম, অফিস সহায়ক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা এর বিরুদ্ধে বদলিকৃত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিকট হতে টাকা চাচ্ছেন এবং টাকা না দিলে নানা ধরনের হয়রানি ভয় দেখাচ্ছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায়, উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার লিখিত জবাব আজ বুধবারের মধ্যেই দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহায়ক মিরাজের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।
জানতে চাইলে মাউশির মাধ্যমিকের এক কর্মকর্তা জানান, মাধ্যমিকের বদলি প্রক্রিয়া পুরোটাই অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে করা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এই জাতীয় কাজের সাথে কেউ জড়িত থাকলে মাউশিকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নানের মুঠোফোনে কল করলে তার বক্তব্য পাওয়া যযায়নি।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
