ঢাকা, শুক্রবার : রাজধানীর শুক্রাবাদের নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শেরে বাংলা নগর থানা শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে শিক্ষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন প্রথম করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি শিক্ষকদের মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আজও শিক্ষক সমাজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।”
তিনি আরও বলেন,“অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া আমাদের শিক্ষক সমাজের গর্ব। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে ১৭ দিন একই কাপড়ে ছিলেন, কারাগারে কষ্ট সহ্য করেছেন। এ রকম আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। তাঁর মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব থাকায় শিক্ষক সমাজ আজও আশাবাদী হয়ে সামনে এগোচ্ছে। আমরা তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।”
তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে শিক্ষক সমাজ নানা সংকটে রয়েছে। শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষকরা অবহেলিত ও উপেক্ষিত। অথচ দেশের উন্নয়নে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান । তিনি বলেন, “শিক্ষক ছাড়া জাতি গঠন সম্ভব নয়। অথচ বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকদের প্রতি যতটা সম্মান দেখানো উচিত, তা করা হচ্ছে না। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন “অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সমাজের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বের কারণেই শিক্ষক সমাজ আজ একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে রূপ নিয়েছে। তিনি শুধু শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সোচ্চার নন, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।”
অধ্যাপক রোকেয়া চৌধুরী বলেন, “শিক্ষক সমাজ শুধু জ্ঞান বিতরণই করেন না, তাঁরা জাতি গঠনের মূল কারিগর। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের রাষ্ট্রে শিক্ষকদের প্রতি যতটা সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নও সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ, মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক রোকেয়া চৌধুরী বেবি, শাহনাজ পারভীন ও অধ্যাপক মফিজ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম । তাঁরা সবাই শিক্ষকদের পেশাগত সমস্যা, সম্মান ও সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
বক্তারা একযোগে বলেন, শিক্ষকদের উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের জন্য আলাদা কমিশন গঠন, সুষ্ঠু পদোন্নতি নীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান।
এ ছাড়াও অত্র থানার অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে তাঁদের নানা অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক সমাজকেও নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও সংগঠিত হতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সভাপতির বক্তব্যে আমাদের অধ্যাপক আব্দুল মফিজ শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ গড়তে তাঁরা নিয়মিত সভা, সেমিনার ও কর্মসূচি পালন করবেন।
নাজনীন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা মুমু আহমেদ বলেন, “শিক্ষক সমাজ আজ নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। অথচ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করছি। আমাদের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা দেশের শিক্ষা অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষকদের জন্য আলাদা ভাতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তাঁরা আরও যোগ্য ও দক্ষ হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে পারেন।
সার্বিকভাবে সম্মেলনটি ছিল শিক্ষকদের সমস্যাবলী ও সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রাণবন্ত সমাবেশ, যেখানে শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সবার কণ্ঠস্বর একত্রিত হয়ে প্রতিধ্বনিত হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
