জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকে বিদ্যালয়ের মাঠ

ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৮১নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটিও তলিয়ে থাকে বলে শিক্ষার্থীদের পানিতে ভিজে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে এই সমস্যা নিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

১৯৪৩ সালে সর্বপ্রথম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সংস্কার করে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সব শ্রেণি মিলিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা জনান, উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি পড়ালেখার মানে অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে এগিয়ে আছে। তবে এখান থেকে বিষখালি নদী নিকটে হওয়ায় জোয়ার এলেই পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয়ের মাঠসহ সড়ক। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, একই সাথে সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া তাদের সমস্যা হচ্ছে।

অভিভাবক আফজাল আকন বলেন, ‘‘এই এলাকায় একটিমাত্র সরকারি বিদ্যালয়। এর দুরাবস্থা চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। এখানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশে অনেক ঘাটতি আছে। বিদ্যালয়ে মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকে, আবার পানি কমে গেলে কাদা হয়ে থাকে। এর কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠটি ব্যবহার করতে পারছেন না। শিশুদের মানুষিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই তবে এখানের শিক্ষার্থীরা সেটা পারছেন না। আমরা চাই অতিদ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিবেন।”

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নিন্ধা বলে, “বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে, আবার জোয়ার হলেই মাঠসহ আমাদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকে। আমরা তখন সেখান থেকে একা একা যেতে পারি না। অনেক সময় শিক্ষকরাও আমাদের এগিয়ে দিয়ে আসেন।”

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে অনেক দিনের এতে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সকালের নির্ধারিত পিটি করতে পারছি না কয়েক বছর ধরে। কারণ, মাঠে হয় জোয়ারের পানি থাকে, না হয় মাঠ কাদা হয়ে থাকে। এছাড়া আমাদের এখানে বিদ্যালয়ের সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। যেন নির্বিঘ্নে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে। মাঠটি বালু দিয়ে ভরাট করে দিলেও এই সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।”

নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, “ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে আমরা অবহিত। আমি এই ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করে রেখেছি। আশা করছি শিগগিরই সমাধান হবে।”

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম২৮/০৮/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.