ময়মনসিংহঃ জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও রোডম্যাপ ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা না থাকায় সম্প্রতি নির্বাচনের জোরালো দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, ছাত্রদল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতকে শ্রদ্ধার সহিত মূল্যয়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে ছাত্রদল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব অনুযায়ী চলার যথাযথ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা অবশ্যই ছাত্র সংসদ ও একটি যুগোপযোগী গঠনতন্ত্র চাই এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ কবির ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে জুলাই বিপ্লবের ১ বছর পূর্ণ হলেও এখনও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক চর্চার প্লাটফর্ম ‘ছাত্র সংসদ’ গড়ে ওঠেনি; যেখানে শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারবে, নেতৃত্বের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে, নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমসাময়িক সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের তেমন কোনো অগ্রগতি এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ চাইবে না এমন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নগণ্য। সুতরাং, ছাত্র সংসদ ইস্যুতে প্রশাসনের চুপ থাকার সুযোগ নেই। তাই অতিসত্বর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাই।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের মুক্তির পথ ছাত্র সংসদের মাধ্যমেই খুঁজে পাবার কথা জানান ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার। বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের মুক্তির পথ আমরা ছাত্র সংসদের মাধ্যমেই খুঁজে পাবো। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে এবং দাবি আদায়ে প্রশাসনকে বাধ্য করতে পারবো। আমাদের জুলাই আন্দোলনের একটি মূল দাবি ছিল— প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ গঠন। ছাত্র সংসদ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বপ্নের প্রতীক। তাই আমরা জোর দাবি জানাই, প্রশাসন যেন দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে। নতুবা আমরা সকল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো। এই আন্দোলন হবে যৌক্তিক ও ঐক্যবদ্ধ, যতক্ষণ না শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সানোয়ার রাব্বি প্রমিজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল অধিকার সুনিশ্চিতের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ছাত্রদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি যখন কথা বলবে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়, স্বচ্ছতা থাকে। ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর হিসাবে ছাত্রসংসদই সমাধান। নতুন নেতৃত্ব তৈরী এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্রসেবার কারিগর উঠে আসবে তখন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতন্ত্র চর্চা হবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিবছর ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে ক্যাম্পাসকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করা।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধিতে ছাত্র সংসদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই, এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র সংসদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রোডম্যাপের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে রোডম্যাপ ঘোষণা, সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া এবং সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই ছাত্র সংসদ বিষয়ে একটা দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৩/০৮/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
