নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী রোজার আগে জাতীয় নির্বাচন না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক সমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে এবং শিক্ষক সমাজও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ছয়শত শিক্ষক নেতা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া।

সম্মেলনে আলোচনায় অংশ নেন প্রায় ৬০ জন শিক্ষক নেতা। বক্তারা একবাক্যে দাবি করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ছাড়া দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। বক্তারা বলেন, দেশের লাখ লাখ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাদের অনেকেই অবসরকালীন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ন্যায্য বেতন-ভাতা পান না। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষক সমাজই দেশের মেধাবী প্রজন্মকে গড়ে তোলে। অথচ রাষ্ট্র তাদের সঠিক মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করা সম্ভব হবে। এসময় তারা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে নেতৃত্বে রেখে জাতীয়করণ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ শিক্ষকদের সব সমস্যার সমাধান হবে। বিএনপি সব সময় শিক্ষকদের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষক সমাজ নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছে। অবসরে যাওয়ার পরও অনেক শিক্ষক-কর্মচারী ন্যায্য পাওনা পান না। শিক্ষা ক্যাডারকে আকর্ষণীয় করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী রোজার আগে নির্বাচন না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বাড়বে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে না। শিক্ষকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন। তাই দ্রুত নির্বাচনই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করার একমাত্র পথ।”
সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মো: জাকির হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, প্রেসিডেন্ট সদস্য আব্দুল আউয়াল, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মাইনুদ্দিন, প্রেসিডেন্ট সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রেসিডেন্ট সদস্য সেলিম মিয়া,প্রেসিডেন্ট সদস্য নিজামুদ্দিন তফারদার, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ,যুগ্ম-মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান, প্রমুখ।
সংগঠনের মহাসচিব মো: জাকির হোসেন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি কেবল শিক্ষকদের নয়, এটি গোটা জাতির দাবি। জাতীয়করণ হলে শিক্ষার্থীরা সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং বৈষম্য দূর হবে।”
কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান বলেন,“শিক্ষকদের অবস্থা এতটা শোচনীয় যে, অবসরে যাওয়ার পর অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। অথচ সরকারি চাকরিজীবীরা সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এটি বৈষম্যমূলক এবং অবিচার।”
সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষা খাতে চলমান বৈষম্যের নানা দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় অনেক কম সুবিধা পান। সরকারি শিক্ষকদের মতো উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বা আবাসন সুবিধা নেই। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত বেতনও পান না।
এছাড়া অবসরে যাওয়ার পরও বেসরকারি শিক্ষকরা পর্যাপ্ত অবসরকালীন ভাতা পান না। অনেক শিক্ষককে নানান জটিল প্রক্রিয়ার কারণে প্রাপ্য টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন চায় শিক্ষক সমাজ।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক নেতারা, মহান জাতীয় সংসদে শিক্ষকদের জন ৩০ টি আসন দাবি জানিয়েছেন।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে কোনো শক্তিই আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। শিক্ষক সমাজের শক্তি অসীম। শিক্ষকেরাই জাতিকে আলোকিত করেন। তাই আমরা নিজেদের অধিকার আদায়ে আপসহীন থাকব।”
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবিগুলো আবারও নতুন করে উচ্চারিত হলো। সম্মেলনের মূল বার্তা ছিল— জাতীয় নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, এবং নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় আসুক, তাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
