শেবাচিমে চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীদের বিক্ষোভে পিছু হটলেন অনশনকারীরা

বরিশালঃ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসক, ইন্টার্ন, নার্স ও কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে অনশনকারীরা বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও নার্সরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের দাবি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে শেবাচিমের কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

দুপুর ১২টার পর থেকে হাসপাতালে আর কোনো অনশনকারী বা আন্দোলনকারীদের দেখা যায়নি। তবে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সেবায় অবহেলা এবং স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া মহিউদ্দিন রনি মোবাইল ফোনে জানান, তাদের ওপর হামলা হয়েছে, তবে কর্মসূচি এখনও চলমান রয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসক নাজমুল হুদা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অবস্থায় ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা হয়রানির শিকার হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যাবেন। কর্মবিরতির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও নার্সরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম, সৈকত, জয় জাকারিয়া, ফয়সালসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

বুধবার রাতে বিএম কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে এই ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিনের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত সচিব, ও পরিচালকসহ একটি প্রতিনিধি দল বরিশালে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

আলোচনায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ৩০ কার্যদিবস সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

সর্বশেষ দুপুর ১টার দিকে বিপুল সংখ্যক যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতাল এলাকায় অবস্থাননেন। এতে কর্মচারী ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।

এর আগে গত ১৮ দিন ধরে ছাত্র-জনতা দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি, গায়েবানা জানাজা, বিক্ষোভ মিছিল ও বরিশাল অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৪/০৮/২০২৫  


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.