বরিশালঃ পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পহেলা মার্চ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জেবুন্নেসা হক জিমির মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে। এ সময় দীর্ঘ ৫ মাস ধরে উপাচার্যের অবহেলায় ওই শিক্ষার্থীকে আর্থিক সাহায্যে না করায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
শুত্রুবার (২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জুম্মা এ জানাজা এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, ২০২৩ সালে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর জেবুন্নেসা হক জিমি তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে ৫ মাসে ৩ বার উপাচার্যের নিকট আবেদনপত্র জমা দেন। কিন্তু উপাচার্য ড.শুচিতা শরমিনের অবহেলার কারণে আবেদনটিতে স্বাক্ষর না হওয়ায় আর্থিক সাহায্য পাইনি ওই শিক্ষার্থী। অতঃপর দীর্ঘদিন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলি করে। এসময় মিছিলটিতে যে ভিসিরে পাইনা, সেই ভিসিরে চাইনা স্লোগানসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব রাইহান বাপ্পি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে কেউ যদি আর্থিক সহায়তা চায় তাহলে গুরুত্ব সহকারে দেখা হোক। আমাদের বোন জিমি ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তিন তিনবার উপাচার্যের নিকট আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করলেও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাননি। আমাদের বোনের সাথে এমন হয়েছে আর কারো এমন না হোক। আমার বোনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন অবহেলা মানবো না।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাহির খান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একটা ফান্ড থাকে। আমাদের বোন আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন জমা দেয়। কিন্তু প্রশাসন কোনো সহায়তা দেয়নি। প্রশাসনকে সহায়তার কথা বলা হয়েছে কিন্তু কোনো রেসপন্স আসেনি। লাস্ট যখন আবেদনটা ভিসি ম্যামের কাছে জমা দেওয়া হয় তিনি বলেছেন পরে এসে স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু তিনি অবহেলা করে এই মর্মস্পর্শী ক্যান্সার আক্রান্ত আপুর বিষয়টি এড়িয়ে যান। আমরা উপাচার্যের কঠোর জবাবদিহিতা চাই।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসময় বলেন, প্রথমত আমি খুবই শোকাহত বিষয়টি নিয়ে। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থী যখনি বলেছে আমি সাথে সাথে তাদের চিঠিটি ভিসি দপ্তরে ফরওয়ার্ড করেছি। এছাড়া আমি আমার বিভাগ ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে তাকে সাধ্যমত সাহায্যে করার করেছি। আমরা প্রসাশনিক জায়গা থেকে যতটা পেরেছি করেছি। তবে আমাদের হয়তো আরো করার সুযোগ ছিলো। পরিশেষে তার জন্য দোয়া চাই। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।
প্রসঙ্গত, জুম্মাবাদ উপাচার্যের পক্ষ হতে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/০৫/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
