এইমাত্র পাওয়া

সঞ্চয় ভেঙে টিকে থাকার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. হাসান। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর মালিবাগ এলাকায়। দুই রুমের ফ্ল্যাটে সম্প্রতি তার মাকে নিয়ে এসেছেন। শুরুতে তেমন কষ্ট না হলেও এখন আছেন বেশ বিপাকে। গত মাসে প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে টাকা উঠিয়েছেন। আয়-ব্যয়ের ব্যাপক অসংগতি। উল্টো এখন পরিবার গ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বেঁচে থাকার জন্য সঞ্চয়ও তো দরকার।

হাসান বলেন, ‘সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এতে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি দামে। কষ্ট করে হলেও আগে প্রতি মাসে চার হাজার টাকা ব্যাংকে ডিপিএস করতাম। এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজার খরচ। যাতায়াত, বাসাভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্য খরচ তো আছেই। বিপরীতে সেভাবে ইনক্রিমেন্ট হয়নি। নিরুপায় হয়ে গত দুই মাস ডিপিএস বন্ধ করেছি। তবুও চলা কঠিন হচ্ছে। শিগগির পরিবার গ্রামে রেখে আসবো, ইতোমধ্যে বাসাও ছেড়ে দিয়েছি।’

দেশে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই বছর ধরে দুই অঙ্কে। নিত্যপণ্যসহ ফলমূলের দাম চড়া। এর মধ্যে শতাধিক পণ্যে বসেছে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স। যার প্রভাবে অন্য পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সব ক্ষেত্রে খরচ বাড়ায়, টান পড়ছে সঞ্চয়ে। এতে বেশি বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কারও সঞ্চয় শূন্য, কেউ সঞ্চয় ভেঙে চলছেন। এই শহরে টিকে থাকতে কেউ আবার মো. হাসানের মতো পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে ব্যাচেলর জীবন বেছে নিতেও বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ চেইন, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে পার্থক্য এজন্য দায়ী। প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি নজর দিতে হবে স্থিতিশীলতার দিকে। যদিও সরকার বলছে, সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। মাসে প্রায় অর্ধলাখ টাকা বেতন তার। তবু উচ্চ মূল্যস্ফীতির কাছে অসহায় তিনি। সঞ্চয় শূন্য। বড় কোনো দুর্ঘটনা হলেই হাত পাততে হয় অন্যের কাছে।

শরিফুল বলেন, ‘একটা সময় মেসে থেকে পড়াশোনা করেছি। তখন যেমন টানাপোড়েন ছিল, এখনো তেমনই আছি। এখন আয় বেড়েছে, সঙ্গে ব্যয়ও। বাচ্চার পড়াশোনা, বাসাভাড়া, নিত্যপণ্য আর যাতায়াতের পেছনেই সব চলে যায়। বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে থেকে গেছি। গত মাসে মায়ের অপারেশনের জন্য ৪৫ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল সেটাও ধার করে সেরেছি।’

গ্রামে পরিবার পাঠিয়ে দিয়ে সাবলেটে উঠেছেন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মারুফ। তিনি বলেন, ‘একটা সময় কিছুটা সঞ্চয় ছিল। পরে বিয়ে হলো, মা-বাবা ও স্ত্রীকে ঢাকায় আনলাম। চলেছি দুই বছর। এতেই সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। তিন মাস হলো পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি। সময় পেলে গ্রামে যাই। অন্তত খরচটা কমেছে। এছাড়া উপায় ছিল না। সন্তান বড় হলে হয়তো নিয়ে আসতে হবে, ততদিনে সঞ্চয় করার চেষ্টা থাকবে।’

শিক্ষাবার্তা /এ/২৩/০১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.