চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পোষ্য কোটা বাতিল ও জুলাই আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে এক সপ্তাহ ধরেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে ৮ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের আশ্বাসে টানা ১২ ঘণ্টা অনশনের পর তারা অনশন স্থগিত ঘোষণা করে। অনশনের বিপরীতে পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
পোষ্য কোটা বাতিলসহ ৯ দফা দাবিতে ১ সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে এবং প্রশাসনের সাথে মিটিং করে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। যার ফলে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেয় ৮ শিক্ষার্থী। প্রশাসন বারবার সমঝোতায় আসতে চাইলে শিক্ষার্থীরা নাকচ করে দেয়। টানা ১২ ঘণ্টা অনশনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তাদের অনশন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। আগামী রোববার প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের সিদ্ধান্তে না আসলে আবারও অনশনে নামার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে অনশনের বিপরীতে পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।
শিক্ষাথীরা বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকুক। প্রশাসন রোববারে আমাদের যে আশ্বাস দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করবেন আশা করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কথা বিবেচনা করে আমরা আজকের মত অনশন স্থগিত ঘোষণা করছি।
রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে কোটা নিয়ে আন্দোলন করেছে আর পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বিষয়। আমি মনে করি এখনকার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বোঝার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এখানে ছাত্ররা কোনো ভাবে লাভবান হচ্ছে না। তারা যেটা চাচ্ছে নিজের কোন উন্নতি হবে না, অন্যদের ক্ষতি হোক আমি বিষয়টা এভাবেই দেখছি।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক ভালোবাসি, তারা আসলে এই জিনিসটা বুঝতে পারছে না। সাধারণ আসনের কেউ তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না তাহলে পোষ্য কোটায় কেন একজন ভর্তি হইতে পারবে না? ছাত্ররা এটাও চাইতে পারে কোটার আসনে কাউকে পাওয়া না গেলে যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিয়ে সেই সিট পূরণ করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আপনারা জানেন আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমিতির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের পোষ্য কোটার দাবি বহাল রেখে, সেই সাথে আমাদের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের পোষ্য কোটার সিট আরও বৃদ্ধি করার জোর জানাচ্ছি।
চবির কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর আজকে এতদিন পর এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি বিষয় নিয়ে দাঁড়াতে হবে সেটি আমাদের আমাদের জন্য সত্যিই বিব্রতকর। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং কর্মচারীদের অতিরিক্ত কিছু সুবিধা দিয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, যদি প্রজ্ঞাপন জারি করে, দেশের সকল ধরনের কোটা বাতিল করা হয় তাহলে আমরা প্রশাসনের সাথে একমত পোষণ করব। আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন করছে তাদের এখানে ভুল আছে। পোষ্য কোটায় সিট দেয়া নিয়ে এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট নিয়ে কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমরা মনে করি তাদের দাবি হওয়া উচিত খালি সিটে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হোক।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৯/০১/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
