এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ তেঘরিয়া ইউনিয়ন বাঘৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অবরোধ করে তিন ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের গেটের সামনে মানববন্ধন করে এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। অবরোধের জন্য মহাসড়কের উভয় পাশে দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েক শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন আটকা পড়ে। এতে প্রায় কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাৎকারী, নারীলোভী প্রধান শিক্ষক আবুল মুনসুর আহমেদের পদত্যাগ চাই এবং তার মেয়ে অফিস সহকারী তাসলিমা আক্তারের পদত্যাগ চাই। অফিস সহকারী পদে থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাগনি পরিচয়ে তাসলিমা শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় খারাপ আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারতন্ত্রের কাছে জিম্মি হয়ে আছে বাঘৈর উচ্চবিদ্যালয়।

প্রধান শিক্ষক আবুল মুনসুর আহমেদ ও তার মেয়ের তাসলিমা আক্তারের নেতৃত্ব চলছে বাঘৈর উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলে কোনো শিক্ষক তাদের মতের বাইরে গেলেই চলে হুমকি। প্রধান শিক্ষক তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. লাট মিয়ার বোন জামাই হওয়ায় এলাকার লোকজন স্কুলে গিয়ে কোনো কথা বলতে পারে না। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক বাঘৈর উচ্চবিদ্যালয়কে পরিবারতন্ত্র করে রেখেছে।

তুহিন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার ওপর লাঠিচার্জ করেন এবং আন্দোলনরত এক বোনকে মাথা ফাটিয়ে দেয়। লাঠিচার্যের সময় অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তেঘরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাট মিয়া বাড়ি বাড়ি লোক পাঠিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, হত্যা মামলার আসামি যখন ইউপি চেয়ারম্যান।

ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের দোসর লাট মিয়া চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মদদ দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি কিভাবে এখনো ইউপি চেয়ারম্যান থাকেন। ছাত্র হত্যা মামলার আসামি আবারও স্বাধীন দেশে কিভাবে ছাত্রদের হুমকি দেয়। প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের পাশাপাশি ছাত্র হত্যা মামলার আসামি লাট চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবিও জানাচ্ছি।
মাদারীপুর থেকে আসা সার্বিক পরিবহনের যাত্রী মো. ইয়াকুব হোসেন জানান, ছাত্র- ছাত্রীরা সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করায় আমরা প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ যানজটে বসে আছি। আমি মাদারীপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছি ডাক্তার দরখানোর জন্য সময়মতো যেতে না পারলে ডাক্তার দেখাতে পারব না।

বরিশাল থেকে আসা বসুমতি পরিবহনের যাত্রী মো. নুর ইসলাম জানান, আমি সরকারি চাকরি করি। দুই দিন ছুটি কাটিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছি। কিন্তু এখানে এসে প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবৎ বসে আছি। ছাত্ররা কি দাবিতে জানি আন্দোলন করছে জানি না।

এ বিষয়ে তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. লাট মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রইস আল রেজোয়ান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি সঠিক হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তারা বিক্ষোভ তুলে নেন।

শিক্ষাবার্তা /এ/০৯/১২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.