নিজস্ব প্রতিবেদক।। অটোপাসের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে যারা হামলা ও ভাঙচুর করছে তারা কেউই ছাত্র নন। অছাত্রদের হাতেই যেন জিম্মি হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তারা। গত দুই দিনে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ অন্যান্য বোর্ডের সামনে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানতে প্রশ্নের জবাবেও মিলেছে তথ্যের গরমিল।
কে বা কারা এই অছাত্রদের মাঠে নামিয়ে এইচএসসির ফল প্রকাশের পাঁচ দিন পরে এসে অটোপাসের দাবিতে বোর্ড চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এভাবে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক করে তুলছে সেটিও অনুসন্ধানের দাবি রাখে। একই সাথে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের সামনে মানববন্ধন করেছেন চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা কর্মবিরতির ঘোষণাও দিয়েছেন। অবশ্য গত রোববার বিকেল থেকেই পুলিশের পাশাপাশি সব শিক্ষা বোর্ডের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে সেনাবাহিনী।
এ দিকে গতকাল সোমবার ঢাকাসহ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। গতকাল দুপুরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ব্যানার নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন করেন সেখানকার কর্মকর্তারা। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, কিছু অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের সাথে কিছু অছাত্র মিলে শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ার বহির্ভূত দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তারা কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করাসহ গালমন্দ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তারই প্রতিবাদে সারা দেশে আন্ত:বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন। একই দাবিতে গতকাল সকালে রাজধানীর বখশিবাজারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ভবনের সামনের সড়কেও মানববন্ধন করেছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। এ সময় তারা নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা উপদেষ্টার পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
গতকাল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেয়া এক ছাত্র বলেন আমি ফলাফলে বৈষম্যের শিকার হয়ে ঢাকায় এসেছি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐ ছাত্র নিজের কলেজের নামই বলতে পারেননি। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে অনেক অছাত্র এবং একটি কুচক্রী মহল এখানে ইন্ধন জোগাচ্ছে। কোনো ছাত্র শিক্ষা বোর্ডে এসে এভাবে ভাঙচুর এবং বোর্ড চেয়ারম্যানের অফিসে আক্রমণ করতে পারে না। তারা এতটাই বেপরোয়া যে, কিছু নামধারী ছাত্র তারা চেয়ারম্যানকেও আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছে। এরা ছাত্র নয়, সবাই অছাত্র।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা গত ১৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও নীতিমালা মেনেই এ বছর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করেছি। এখন এই ফলাফলে যদি কেউ সন্তুষ্ট না হয় তাহলে তো সে নিয়মমতো ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে
। আমরা সেটি বিবেচনা করব। কিন্তু তারা (অকৃতকার্য ছাত্ররা) সেটি না করে একযোগে সবাই অটোপাস দাবি করছে। এটা তো কোনো কথা হতে পারে না। ছাত্ররা আমার অফিসে ভাঙচুর করেছে। আমাকেও আক্রমণ করতে চেয়েছে। বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তার গায়েও এই ছাত্ররা হাত দিয়েছে। তাদেরকে আহত করেছে।
এর আগে গত রোববার এইচএসসির ফল পরিবর্তন ও পাসের দাবিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। তারা বোর্ডের ফটকে তালা ঝুলিয়ে নানা সেøাগান দেন। কয়েকটি স্থানে সড়কও অবরোধ করে রাখে।
আন্দোলনে একাধিক বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরীক্ষার্থীদের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রকাশিত ফলকে বৈষম্যমূলক বলছে। তারা সবগুলো বিষয়ের ওপর সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল চায়। এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই সেই সাবজেক্ট ম্যাপিং করার দাবি তাদের।
শিক্ষাবার্তা ডট কম /এ/২২/১০/২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
