ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের দরিদ্র নুরুল ইসলামের স্ত্রী শেফালী আক্তার। অষ্টম শ্রেণি পাস করা এই নারী এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। স্বামী ছোট্ট একটি লাইব্রেরির দোকান করেন। দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তাদের অনেকটা অভাবের সংসার তাদের। কিন্তু এরইমধ্যে এনজিওতে একই পদে এইচএসসি পাস সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগ দেওয়া হলে শেফালীর চাকরি চলে যায়। এতে লজ্জাসহ কষ্ট পান তিনি।
প্রতিজ্ঞা করেন এইচএসসি পাস করবেন। যেই কথা সেই কাজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যান। প্রবল মনোবল আর ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবার এইচএসসি পাস করেছেন। তার ছেলে মেহেদী হাসান মিয়াদও পাস করেছেন পরীক্ষায়। এতে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। ছেলের সঙ্গে মায়ের এমন সাফল্যে খুশি এলাকাবাসীও।
গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে মা শেফালী আক্তার কারিগরি শাখা থেকে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩ এবং মানবিক শাখা থেকে ছেলে পেয়েছেন ৪.৮৩। এর মধ্যে শেফালী আক্তার ফুলবাড়িয়া কালাদহ জনতা মহাবিদ্যালয় কারিগরি শাখা থেকে ও ছেলে মেহদী হাসান মিয়াদ ঢাকার মিরপুরে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের মানবিক শাখা থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
জানা যায়, ২০২০ সালে এনজিওতে চাকরি চলে গেলে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে স্থানীয় শুশুতি বাজারে সাফা মেডিকেল সেন্টারের রিসিপশনে বিকেলের শিফটে কাজ নেন শেফালী আক্তার। কাজের পাশাপাশি কিছুদিন পর আছিম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কারিগরি শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তখন তার ছোট ছেলে মেহেদী হাসান মিয়াদ শুশুতি উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখার নবম শ্রেণির ছাত্র। বড় ছেলে শাকিল হাসান মৃদুল তখন অনার্সের শিক্ষার্থী। সেই থেকে রিসিপশনে কাজ করার পাশাপাশি ছেলেদের সঙ্গে নিজেও লেখাপড়া চালিয়ে যান। এসএসসির গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ফুলবাড়িয়া কালাদহ জনতা মহাবিদ্যালয়ে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে পাস করেন এই নারী।
স্থানীয় জয়নাল মিয়া বলেন, শেফালী আক্তার পরিশ্রমী নারী। পার্টটাইম চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করতেন। তিনি পড়াশোনা করছেন এলাকার অনেকে জানতেন আবার কেউ কেউ জানতেন না। তবে তিনি ভালো ফলাফল পেয়ে পাস করবেন এটি কেউ ভাবতেই পারেনি। এখন তার এমন ফলাফলে সবাই খুশি।
আজিজুল হক নামের আরেকজন বলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নাই, এই নারী আবারো প্রমাণ করলেন। তাকে দেখে আরো অনেকে পড়ালেখায় উৎসাহিত হবে বলে মনে করি। মা-ছেলের সাফল্যের আমরা আনন্দিত।
পড়ালেখার বিষয়ে জানতে চাইলে শেফালী আক্তার বলেন, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট না থাকায় চাকরি চলে যায়, স্বামী সন্তানের কাছে লজ্জায় পড়ে যাই। পরে সিদ্ধান্ত নেই লেখাপড়া করবো। ইচ্ছা শক্তি কাজে লাগিয়ে পড়াশোনা করে এইচএসসি পাস করেছি।
শেফালী আক্তারের স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী খুব কষ্ট পেয়েছিল। তাই পড়াশোনা করেছে। ছেলের সঙ্গে তার পাসে আমি খুব খুশি। আগামীতেও শেফালী লেখাপড়া চালিয়ে গেলে আমি বাঁধা দেব না।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২২/১০/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
