এইমাত্র পাওয়া

নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা, ঢাবি শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালিদ বিন আমীরের পদত্যাগ চেয়ে বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিভাগের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা, হিজাব নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিপীড়ন, পাঠদানে অযোগ্যতা ও অপেশাদারিত্বসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি গভীর রাতে মেয়েদের মেসেজ ও ফোন দেন। মাঝে মাঝে নারী শিক্ষার্থীদের ডিপার্টমেন্টের রুমে একা ডাকেন। তিনি ক্লাসে অশ্লীল কথা বলেন। পোশাক নিয়ে কটু কথা বলেন। বিবাহিত শিক্ষার্থীদের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে ক্লাসে কথা তোলেন। আঞ্চলিকতা নিয়েও ক্লাসে কথা তোলেন। ক্লাসে একটু লম্বা মেয়েদের ডিরেক্টলি উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিভিন্ন সময় মেয়েদের শারীরিক গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পড়ানোর মতো যোগ্যতাই নেই, পারদর্শীও না। তার অধীনে ইন্টার্নশিপ করেছে এমন একটা মেয়েকেও তিনি অশ্লীল কথাবার্তা বলতেন। তাকে বলেছেন, আপনি উল্টাপাল্টা কিছু করেন কিনা, আপনি আমার সামনে বোরকা পরেন, আপনার বয়ফ্রেন্ডের সামনে বোরকা পরেন তো। আমাদের বিভাগের শিক্ষক সাগুপ্তা শাহীন ম্যামের চুল কালার করা নিয়ে তিনি একবার ক্লাসে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তিনি মাঝে মধ্যে ক্লাসে বলতেন, আমার বৌ খুব বোরিং। আমার একটা গার্লফ্রেন্ড ছিল। আমি এখন খুব হতাশ।

বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ২০২১ সালে তিনি ২৫তম ব্যাচের ২য় বর্ষের ৩য় সেমিস্টার পরীক্ষার ৩৮ জনকে ফেল করিয়ে দেন। শুধু স্লাইড দেন। না পড়িয়ে নিজে পড়তে বলেন। এমনকি তিনি একবার পরীক্ষার একমাস আগে কোনোকিছু না পড়িয়েই সিলেবাস হিসেবে ২৫টা চ্যাপ্টার দেন, যেখানে সাধারণ ব্যাপার হচ্ছে ১০টা চ্যাপ্টার। ২৮ ব্যাচের ৩য় সেমিস্টারের বিজনেস ম্যাথের মতো ক্লাসও তিনি অনলাইনে নিতেন। অফলাইনে নিয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিনটা।

তবে অভিযুক্ত খালিদ বিন আমীরের সাথে একাধিকবার ফোনকলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তো ছেলে-মেয়েদের সব কথা শুনেছি। ওরা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে আমরা সব তদন্ত করব, ছেলে মেয়েদের আমরা ডেকে কথা বলব। কথা বলে মোটামুটি প্রসিডিউয়াল যে অ্যাকশন গুলো হয়, ছেলেমেয়েদের এভিডেন্সগুলোর যতটুকু সত্যতা আছে সেই আলোকে আমরা অ্যাকশনে যাব।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০১/০৯/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.