এইমাত্র পাওয়া

বাতিলকৃত এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মেধার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাতিলকৃত এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ফোরাম।

রবিবার (২৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, একদল পরীক্ষার্থীর আন্দোলনের কারণে এইচএসসির প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় না নিয়ে সরাসরি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণাটি সম্পূর্ণ অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ফোরাম’। পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অযৌক্তিক এবং একপাক্ষিক। এ ধরনের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিভাবকসহ দেশের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্তে আসা যেত।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে সাতটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পরীক্ষা দুই দফায় স্থগিত করা হয়। তখন পর্যন্ত ছয়টি লিখিত পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল। এরপর দেশের পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে স্থগিত পরীক্ষাগুলো ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু একদল পরীক্ষার্থী গত ১৯ ও ২০ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং সচিবালয় ঘেরাও করে স্থগিত বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করে। যার প্রেক্ষিতে সেদিনই (২০ আগস্ট) পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে সরকার।

তারা উল্লেখ করেন, এ অবস্থায় আমরা উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা মনে করছি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত উচ্চশিক্ষা লাভের ক্ষেত্রকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা অবমূল্যায়িত হবে, দেশে-বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতের জন্য এই সিদ্ধান্ত একটি নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিল। অর্থাৎ আন্দোলন করলেই যেকোনো অযৌক্তিক দাবিও আদায় করা যায় সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি হলো।

‘আর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরও বলতে চাই কষ্ট হলেও তোমাদের পরীক্ষা দেওয়া উচিত। আমরাও চাই না যে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আহত ছাত্রছাত্রীদের সাথে কোনো বৈষম্য হোক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তোমাদের সাথে আমরা অভিভাবকরাও সমর্থন দিয়েছি এবং অনেকেই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা অভিভাবকরা তোমাদের মঙ্গল চাই। তোমরাই একদিন এই দেশের হাল ধরবে। শুধু দেশ নয়, বিদেশেও তোমরা যেন তোমাদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পার সেটা ভেবেও আমরা গর্বিত হই, বলা হয় বিবৃতিতে।

এতে বলা হয়, চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সমূহের এইচএসসি পরিক্ষার্থীসহ আমাদের সকল সন্তানদের উন্নত শিক্ষাজীবনের পথ সুগম করার জন্য ২ মাস পিছিয়ে দিয়ে হলেও এইচএসসির বাকি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদদের কাছে অনুরোধ জানান তারা।

বিবৃতিতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি যুক্তিসঙ্গত সমাধানের পথ খুজেঁ বের করে এই সাড়ে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন

অভিভাবক নাসরিন কাকলি, তাহমিনা হক, রোকসানা শারমিন রুমা, জাহিদুর রহমান, নুসরাত জাহান, সানজিদা আক্তার, এ বি এম সাঈদুর রহমান, লিনা ফারজানা, সানজিদা খান রিপা, ইয়াসমিন আখতার, সানজিদা আক্তার, মানসুরা হোসেন।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৬/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.