এইমাত্র পাওয়া

সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক বুটেক্স শিক্ষক সমিতির

ঢাকা: বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সঙ্গে একাত্মতা রেখে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) শিক্ষক সমিতি আগামী ২৫ থেকে ২৭ জুন অর্ধদিবস এবং ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবে।

এরপরও দাবি আদায় না হলে ১ জুলাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত হবে। বৈষম্যমূলক পেনশন স্কিম প্রত্যাহার সংক্রান্ত বুটেক্স শিক্ষক সমিতির বিজ্ঞপ্তি হতে এ তথ্য জানা যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে এর আগে বুটেক্স শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন এবং অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

এখনো প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবার সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

বুটেক্স শিক্ষক সমিতির ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিতে সর্বাত্মক কর্মসূচি নিয়ে জানানো হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রকার কার্যক্রম তথা ক্লাস, পরীক্ষা, সভা, সেমিনার ইত্যাদিতে কর্মবিরতি পালন করা হবে এবং বিভাগীয় প্রধান, ফ্যাকাল্টি ডিন, বিভিন্ন ইউনিটের পরিচালরা, প্রক্টর ও প্রভোস্ট কোনো প্রকার দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন না।

এ নিয়ে বুটেক্স শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. সাইদুজ্জামান বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অপ্রত্যাশিত এবং অসম্মানজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করে এবং তাদের মধ্যে প্রথম সারির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতায় আসে। মেধাবীরা অধ্যাপনায় আকৃষ্ট করার জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও উচিত বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। তাহলে তারা শিক্ষকতায় আসবে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত না করতে পারলে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া কখনই সম্ভব হবে না। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়েছেন, তা কখনই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের উচ্চতর শিক্ষাকে অবহেলা করে সম্ভব না।

তিনি বলেন, যে দেশ যত বেশি উন্নত, সে দেশে শিক্ষা ও শিক্ষকতাকে তত বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে। শিক্ষা ও শিক্ষকতার যথার্থ মূল্যায়ন আছে বলেই শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারছেন। নিরলস গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কার করছেন নতুন নতুন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি। আমাদের দেশও প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনুন্নত-স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে ও তরান্বিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সোপান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে মুক্ত করে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রবর্তন করা জরুরি। মেধা পাঁচার থামানোর এটাই অন্যতম উপায় এবং এখনই উপযুক্ত সময়।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৩/০৬/৩০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.