নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় নামী স্কুলগুলোতে শিক্ষার মানে পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

মনিপুর স্কুলে নিয়মিত গভর্নিং বডি না থাকা, গভর্নিং বডি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং চলছে টানা কয়েক বছর ধরে। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও জবাবদিহি ছিল না। এছাড়া কয়েক বছর ধরে নিয়মিত প্রতিষ্ঠান প্রধান নেই। যাকে বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তার নেতৃত্ব মানেননি শিক্ষকদের একটি অংশ। ফলে পাঠদানে বিঘ্ন চলছিল এই প্রতিষ্ঠানটিতে। এসএসসির ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি শাখা। প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে এতসংখ্যক শিক্ষার্থী মনিটরিং, তাদের পাঠদানে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গত বছর এ প্রতিষ্ঠানটির ৩২৬ পরীক্ষার্থী ফেল করেছিল। এ কারণে স্থানীয় সংসদ সদস্য তদন্ত কমিটির দাবি তুলেছিলেন। এবার ১৭০ জন ফেল করায় এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সুলতানা ইয়াসমিন নামে এক অভিভাবক বলেন, স্কুলে শুধুই হাজিরা দিতে যায় সন্তানরা। লেখাপড়া হয় না বললেই চলে। প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। এতে আমাদের হাজার হাজার টাকা চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যতটুকু ভালো ফল করেছে তা অভিভাবকদের উদ্যোগ ও প্রাইভেট পড়ার কারণে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ হাজার ১৯৫ জন। পাশ করেছে ৯৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৭০ শতাংশ। ২০১৩ সালে সেরাদের সেরা হয়েছিল এ স্কুলটি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে এবারের চেয়ে ভালো ফল করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এবার ৮ম অবস্থানে।

প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমিরুল ইসলাম বলেন, ভালো ফলের পেছনে স্কুলের কৃতিত্ব নেই বললেই চলে। স্কুলে এক রুমে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসানো হয়। কোনো পড়াশোনা হয় না বললেই চলে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ও শিক্ষকের বাসায় গিয়ে মেয়েকে পড়িয়েছি। এ কারণে মেয়ে ভালো ফল করেছে। এই অভিভাবক বলেন, ভালো ফল করতে হলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমাতে হবে। বাড়াতে হবে শিক্ষকদের আন্তরিকতা। নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে। অভিভাবকদের নিয়ে মিটিং করতে হবে। কিন্তু ভিকারুননিসায় এসবের ঘাটতি রয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে ছিল দ্বন্দ্ব। বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার ফলে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। যার ফল এবারের এসএসসিতে পড়েছে।

যদিও ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, গত বারের চেয়ে এবার ফলাফল কিছুটা খারাপ করেছে শিক্ষার্থীরা। দেশ জুড়েই একই অবস্থা। কোভিডের সময় মোবাইল ফোনের প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বেড়ে যায়। পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমেছে। আর কোভিডের পরে সিলেবাস ছোট ছিল। এবার ফুল সিলেবাস হওয়ায় কিছুটা কঠিন ছিল তাদের জন্য।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে  নিয়মিত গভর্নিং বডি না থাকায়,  শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং চলছে টানা কয়েক বছর ধরে। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও জবাবদিহি ছিল না। এছাড়া কয়েক বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে  প্রতিষ্ঠান চলছে। যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বে আছেন তার নেতৃত্ব শিক্ষকদের একটি গ্রুপ অন্যগ্রুপের উপর অযাচিত খবরদারি  করছে। এই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে মামলা মোকাদদমা ও পত্রিকার শিরোনাম নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিনত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ডিসিপ্লিন শুণ্যের কোঠায়। ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নিজের পছন্দের লোক দিয়ে এডহক কমিটি করে প্রতিষ্ঠানটি চালাতে চেষ্ঠা করছে বারবার। প্রতিষ্ঠান প্রধান স্কুলের একজন শিক্ষিকার স্বামীকে দিয়ে মামলা করিয়ে স্কুলের কমিটি নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছে।েআগের এডহক কমিটিতে সরকারের যুগ্মসচিব মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বারবার অভিভাবক সদস্য হলে এই নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট হলে শিক্ষাবোর্ড তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া প্রমানিত হওয়ায় অভিভাবক সদস্য থেকে বাদ যায় কিন্তু তিনি ৩ বার মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিভাবক সদস্য ছিলেন। গত বছর এ প্রতিষ্ঠানটির ৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছিল। এবার কিছুটা উন্নতি হলেও  শিক্ষার মান নিম্নমুখী।

শিল্পী রেখা নামে এক অভিভাবক বলেন, স্কুলে শুধুই হাজিরা দিতে যায় সন্তানরা। লেখাপড়া হয় না বললেই চলে।  শিক্ষার্থীরা যতটুকু ভালো ফল করেছে তা অভিভাবকদের উদ্যোগ ও প্রাইভেট পড়ার কারণে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন আমরা আশাবাদী  সকল অতি অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধান হবে।

 শিবা/জামান/১৬/০৫/২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.