শোরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা। এবারই প্রথম প্রত্যেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব তৈরি প্রশ্নে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। জেলার ১ হাজার ২৮৫ সরকারি স্কুলে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তৈরী করা প্রশ্নে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পরীক্ষা নিতো প্রত্যেক উপজেলা পরীক্ষা কমিটি। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ওই প্রশ্ন পত্র আবার শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে কিনে নিতে হতো। এজন্য ব্যয় করতে হতো আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রশ্ন কেনার সময় পরীক্ষার আগেই তা ফাঁস হয়ে যেতো। গত বছর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকায় ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দেয় শিক্ষার্থীরা।
এ কারণে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সহকারি শিক্ষা অফিসারকে শোকজ করে তদন্ত করে দেখার জন্য কমিটি গঠন করেছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। ফলে প্রশ্নফাঁস রোধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব তৈরি করা প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে জেলার ১ হাজার ২৮৫ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজস্ব প্রশ্ন তৈরি করে শিশুদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, পৌনে ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৭১ হাজার ৬৮১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬৮ হাজার ৪৩৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৭১ হাজার ৫১৪ জন ও চতুর্থ শ্রেণিতে ৬৪ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সমিতির প্রশ্নের চেয়ে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৈরি প্রশ্নের মান ভাল বলে মনে করেন শিক্ষকরা। সদর উপজেলার বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। একারনে তাদের বই সম্পর্কে রয়েছে অভিজ্ঞতা। তারা যদি প্রশ্ন তৈরি করে, অবশ্যই তা মানসম্মত হবে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের খরচও কম হবে। একই মন্তব্য করেছেন রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।
উপশহর শহীদ স্মরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাদ হোসেন বাবু জানান, যে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি; সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৈরি প্রশ্নে পরীক্ষা নিলে খরচ কম হবে। কম শিক্ষার্থী থাকলে পরীক্ষার ব্যয় বেশি হবে। প্রশ্ন তৈরির চর্চা থাকলে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও বাড়বে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, ‘এভাবে শিক্ষকরা প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা নিলে প্রশ্ন ফাঁস হবে না। তবে এখন বলা যাবে না বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৈরি করা প্রশ্নের মান ভাল। কারন সমিতির তৈরি করা প্রশ্ন যাচাই বাছাই করা হতো। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশ্ন তৈরি করার পর ফটোকপি করে পরীক্ষা নিচ্ছে। কতটুকু যাচাইবাছাই করা হচ্ছে তা পরে বোঝা যাবে। পরীক্ষা থেকে মান নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
