৩৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এসএটিভিকে

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসএ টিভির ব্রডকাস্ট ও প্রোগ্রাম বিভাগের ১০ কর্মীকে ছাঁটাই এবং ৮ সংবাদকর্মীকে শুধুমাত্র কারণ দর্শানো নোটিশের মাধ্যমে বরখাস্তকৃতদের চাকুরিতে বহাল না করলে আগামী ৭ ডিসেম্বর শনিবার এসএটিভি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- ডিইউজে নেতারা।

এমন পরিস্থিতিতে চাকুরিচ্যুত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের চাকুরি বহাল ও সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য সকল স্তরের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির সভাপতি আবু জাফর সূর্য্য এসএ টিভি কর্তৃপক্ষকে ৩৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে এসএ টিভির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, এর আগে দেশের খ্যাতনামা অনেক পত্রিকা সংবাদকর্মীদের বেতন নিয়ে গড়িমসি করেও পার পায়নি। এসএ টিভির মালিকও পার পাবেন না। আমাদের আশ্বাস দেওয়ার পরও সালাউদ্দিন সাহেব কথা রাখেননি। আমি আগামী শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা পর্যন্ত বিষয়টির সুরাহা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে এসএ টিভি কর্তৃপক্ষের পূর্বের চুক্তি মানা না হলে এসএ টিভির অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে। সেই সাথে এসএ টিভি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ মালিকপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকরা আপনাদের ব্যবসার ভাগ চায় না। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। নিজের কাজের মূল্যটুকু বুঝে নিতে চায়। সাংবাদিকদের দিনের পর দিন কাজ করিয়ে বেতন দেবেন না এটা কেমন কথা! আজ ন্যায্য অধিকার আদায়ে সাংবাদিক নেতারা এক জোট হয়েছেন। আমরা এক হয়ে আপনাদের রক্তচক্ষুকে বুঝিয়ে দেব সাংবাদিকরা অধিকার বুঝে নিতে পারে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, আমার ভাইদের বেতন না দিয়ে সাম্রাজ্য গড়ে তুলবেন, সেটা সহ্য করা হবে না। আপনাদের সম্পদের উৎস সাংবাদিকরা খুঁজে বের করবে। আমি, আমার ইউনিয়ন এবং আমার সংবাদকর্মী ভাইয়েরা আপনাদের নীতিহীন আচরণের সঠিক জবাব দেব। আমরা চাই না আপনাদেরকে অপদস্ত করতে। কিন্তু আমাদেরকে বাধ্য করলে আমরা রাস্তায় নেমে এর সঠিক জবাব দেব।

অবস্থান কর্মসূচীতে আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ উম্মুল ওয়ারা সুইটি, এসএ টিভি থেকে চাকুরিচ্যুত সাংবাদিক জোনায়েদ আলী সাকী, মঞ্জুরুল হাসান মিলন, মো. মুহসীন কবীর, রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, টেলিভিশন ক্যামেরা সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এর ফরহাদ।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ধরে এসএটিভিতে অস্থিতিশীল পরিবেশের সুরাহা করতে এসে বাধার মুখে পড়েন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে গুলশানে এসএটিভি কার্যালয়ে আসেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সুর্য্, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সহ-সভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক, যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ উম্মুল ওয়ারা সুইটি, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল এবং জাহিদুর রহমান জিহাদ।

কিন্তু গেটেই তাদের আটকে দেয়া হয়। দফায়-দফায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তারা এসে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে যান। এরইমাঝে তাদের এসএটিভি কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা খ ম হারুন। তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ কার্যালয়ে ছিলেন না। পরে জানিয়ে দেয়া হয়, বুধবার বিকেল ৩টায় তিনি সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

এই আলোচনায় অনুষ্ঠান বিভাগের ১০ জনকে ছাঁটাইয়ের পর ৮ সংবাদকর্মীকে কর্মবিরতি দেয়ার বিষয়টি যেমন নিষ্পত্তি হবে। তেমনি প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরিচ্যুত করার চক্রান্ত এবং নানাভাবে নাজেহাল করার প্রধান হোতা হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালের বিষয়টিও সুরাহা হবে বলে আশা করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

কিন্তু গেল ৭ অক্টোবর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের হস্তক্ষেপে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করা হয়। তবে এই চুক্তি বাস্তবায়ন না করেই গত ২৯ নভেম্বর কর্মবিরতি দেয়া হয়— স্টাফ রিপোর্টার মো. জুনায়েদ আলী সাকী, পিএম বিটের স্টাফ রিপোর্টার এস এম মাহমুদুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার মাহমুদুল হক সরকার, স্পোর্টসের স্টাফ রিপোর্টার মো. আরিফ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার মঞ্জুরুল হাসান মিলন, স্টাফ রিপোর্টার মো. মুহসীন কবীর, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর খালিদ বিন আনিস এবং ক্যামেরাম্যান মো. আনোয়ার হোসেনকে। ১ ডিসেম্বর তাদের অফিসে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এরপর আবারও এসএটিভিতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। বিষয়টি গড়ায় থানা পর্যন্ত। ২ ডিসেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়রী করেন সাংবাদিকরা।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত, কর্মক্ষেত্রে নাজেহাল-হয়রানি, বকেয়া বেতন আদায়সহ চলমান সংকট নিরসনে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে এসএটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদের বৈঠক করার কথা থাকলেও তিনি না আসায় বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.