শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলি সংক্রান্ত একটি আদেশের সমালোচনা করে বৃহস্পতিবার একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অথচ এই রিপোর্টটির প্রশংসা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা।গতকাল জারি হওয়া বদলীর আদেশে এই কর্মকর্তার নামও রয়েছে ।
প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রশংসা করতে পারেন কিনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফেসবুকে ওই রিপোর্টের কমেন্টস স্ট্যাটাস দেয়া শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার শামিল। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি এটা করতে পারেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছেন, শিক্ষা ক্যাডার ওই কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়েই কমেন্ট করেছেন।

শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা মাসুদা বেগম উপ-পরিচালক হিসেবে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী নায়েমে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল এক আদেশে সেই কর্মকর্তাকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে বদলি করে। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা যার কারণে তিনি দৈনিক একটি পত্রিকার শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনায় করে তৈরি করা রিপোর্টের প্রশংসা করে করেছেন।
শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী-নুরুল-ইসলাম-নাহিদ তাকে ঢাকার বাইরে বদলী করেন।
কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে তিনি আবার ঢাকায় চলে আসেন। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাকে ঢাকায় বদলি করে আনেন।এক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা তার পক্ষে সুপারিশ করেন বলে নানা মাধ্যমে অভিযোগ রয়েছে।
আজ একটি পত্রিকার একটি প্রকাশিত রিপোর্টে মাসুদা বেগমের সম্পর্কে বলা হয়, “বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ছিলেন নায়েমের উপ-পরিচালক মাসুদা বেগম। তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে প্রেষণে কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পুরান ঢাকার আনন্দময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের গভর্নিংবডির সভাপতি থাকাকালে আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ ছিল মাসুদার বিরুদ্ধে। নিজের মেয়ের ফল পরিবর্তন করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে তাকে কুমিল্লা বদলি করা হলেও কিছুদিনের মধ্যে নায়েমে বদলি হয়ে আসেন। এছাড়াও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তা তদন্তাধীন।“
শিক্ষা ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে শিক্ষা ক্যাডার ওই কর্মকর্তা এভাবে লিখতে পারেন না। এটা তার সরকারি চাকরির আইনের লংঘন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেছেন, শিক্ষা ক্যাডারের ওই কর্মকর্তা যেভাবে মন্ত্রী সমালোচনায় করেছেন তাতে আমরা বিব্রত। বিষয়টি আমরা মাননীয় মন্ত্রীকে অবহিত করব।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলেছেন, নানা কৌশলে তদবির করে কিছু কর্মকর্তার ঘুরেফিরে ঢাকায় থাকছেন।ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও নানা কৌশল থেকে করে তারা ঢাকায় আবার ফেরত আসেন।
কলেজের শিক্ষক হিসেবে তার পাঠদানে নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও তিনি শিক্ষা প্রশাসনে আছেন দীর্ঘদিন ধরে।শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক কলেজ ও প্রশাসন শাহেদুল খবীর র্চৌধুরী দীর্ঘদিন ঢাকা বোর্ডে কর্মরত ছিলেন।
সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিষয়ে সমালোচনা জড়িয়ে পড়েন তিনি। মন্ত্রনা তদন্ত নানা অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ার পর নেয়া হয়েছে তিনি এবং ওই সময় যারা নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন তারা কেউ পরবর্তীতে কোনো বড় নিয়োগ পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
