নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আত্মহত্যা বা আত্মহনন হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়া বিশেষ। প্রতিবছর প্রায় দশ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে
প্রতিবছর সারা বিশ্বে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে আত্মহত্যা ত্রয়োদশতম প্রধান কারণ। বর্তমানে বাংলাদেশে এর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। সমাজে আমরা কীভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে পারি এ বিষয়ে কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থীর মতামত তুলে ধরছেন শফিক রিয়ান।
মানুষ বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ আত্মহত্যার কারণ হতাশা ও অবসাদ। একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি চেষ্টা করে সবার থেকে পালিয়ে বাঁচতে। এই পালানোর মাধ্যম হিসেবে আত্মহত্যা বেছে নেওয়াটা আমার মতে বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। আত্মহত্যার চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্তি পেতে এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, সহকর্মী বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। একজন মনোবিজ্ঞানী, মনোচিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। একটি জার্নাল লেখা আপনার চিন্তা-ভাবনা এবং অনুভূতিগুলোকে স্পষ্ট করতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। শখের কাজ, ঘুরতে যাওয়া, গান শোনা, বই পড়া, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো ইত্যাদি আপনার মেজাজ উন্নত করতে পারে। আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল হোন, তাদের অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দিন।
আমরা পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছি এটা সবচেয়ে বড় একটা সুযোগ। এত প্রাণীর মাঝে কেবল মানুষকেই উন্নত মস্তিষ্ক, বিবেক ও চিন্তা দেওয়া হয়েছে। দুঃখ, বেদনা, হাসি, কান্না এই অনুভূতিগুলো নিয়েই জীবন। প্রকৃতি সব মানুষকে একই আসমান একই জমিন দিয়েছেন কিন্তু কেউ জীবনকে কাজে লাগাতে পারে কেউ হেরে যায় জীবনের কাছে। হেরে যাওয়া মানেই জীবন শেষ নয়। মানুষ যখন জীবনের সব আশা হারিয়ে ফেলে তখন সে আত্মহত্যার মতো ভয়ানক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এই মানুষগুলোর দরকার সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমর্থন। জীবন খুব মূল্যবান, বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মুমূর্ষু মানুষের কাছে গেলে আমরা বুঝতে পারি নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও এক মুহূর্ত বেশি বাঁচার জন্য মানুষের আকুতি কতখানি। আত্মহত্যা প্রতিকারের লক্ষ্যে শিশুদের বিকাশের সময় তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা সফলতার মতো ব্যর্থতাকেও মেনে নিতে পারে। কারও মধ্যে যে কোনো ধরনের মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়াসহ সব মানসিক রোগ শনাক্ত ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
২০২৩ সালের পরিসংখ্যান
আঁচল ফাউন্ডেশন তথ্য অনুযায়ী,
২০২৩ সালে যে ৫১৩ জন আত্মহত্যা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ২২৭ জন স্কুলশিক্ষার্থী, ১৪০ জন কলেজ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৯৮ জন
এবং ৪৮ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী।
তবে ২০২২ সালে সংখ্যা ছিল ৫৩২
নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি
আত্মহননকারীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে
ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগের অন্তত ১৪৯ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগের ৮৯, রাজশাহী বিভাগের ৭৭, খুলনা বিভাগের ৬৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তালিকার পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে রয়েছে বরিশাল ও রংপুর বিভাগের নাম। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/জামান/৩০/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
