।। আমির আসহাব।।
যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে গঠিত হয়েছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।জেলা/থানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তালিকা অনুসারে বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী উত্তীর্ণ করা এবং যোগ্যতার সনদ প্রদান করা ছিল মূল লক্ষ্য।
এনটিআরসিএ যোগ্যতার সনদ প্রদান করা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা ছিল ম্যানেজিং কমিটির হাতে। ফলে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষবানিজ্য চলতো লোকচক্ষুর অন্তরালে। ২০১৫ সালের প্রকাশিত গেজেটে শুধু ১৩তমদের নিয়োগের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নেয় এনটিআরসিএ। এবং নতুন গেজেট অনুসারে এনটিআরসিএ কার্যক্রম শুরু করায় ১৩তমরা লাভবান হলেও ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ ও সনদপ্রাপ্ত ১-১২তমরা (ম্যানেজিং কমিটির নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায়) নিয়োগ অধিকার বঞ্চিত হয়ে আদালতের দ্বারস্ত হন।
এতে আটকে যায় ১৩তমদের নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম। ১২.০৬.২০১৮ খ্রিষ্ট্রাব্দ তারিখের পূর্বে যারা (১-১২তম) নিবন্ধন সনদ লাভ করেছে তাদের ক্ষেত্রে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের ৩৯০০/২০১৯ রায় অনুযায়ী বয়সসীমা শিথিলযোগ্য এবং আদালতের নির্দেশে ১-১২তম, বিশেষ ১০তম এবং ১৩তমদের নিয়ে জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।এককবার একেকটি পরীক্ষায় প্রর্থীরা এককে নাম্বার পান।
পদ্ধতিগত পরিবর্তন হলে মূল্যায়নের সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যায়। তাই সম্মিলিত তালিকা করায় কোনো কোনো ব্যাচ লাভবান হয়, আবার কোনো কোনো ব্যাচের একেবারে বিনা কারণে সর্বনাশ হয়ে যায়। নম্বর ভিত্তিক তালিকা করার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না, ফলে পূর্বে যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১-১২তমদের একই তালিতায় অর্ন্তভূক্ত করায় তাদের নব্বইভাগেরই অবস্থান থাকে তালিকার পিছনের দিকে।
স্বাভাবিকভাবেই সকলের জন্য নিয়োগ সুপারিশের কোনো সুন্দর ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির প্রয়োগ ও মনমানসিকতা না থাকলে ১-১২ তমরা নিয়োগ বঞ্চিত থেকে যাবে। কি হতে পারত আর কী হয়েছে চলুন জেনে নিই। এদিকে জাতি গঠনের কারিগর, শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেন বন্ধের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা এনটিআরসিএ’র হাতে হস্তান্তর করা হয়।
আশায় বুক বাঁধে নিয়োগ প্রত্যাশী নিবন্ধিত শিক্ষক সমাজ। যেহেতু এনটিআরসিএ’র নীতিমালায় ছিল-শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন ব্যতিত কোনো ব্যক্তি কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পদে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের যোগ্য বিবেচিত হবে না। সুতরাং শিক্ষার্থীদের পথ পদর্শক হবেন যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিবন্ধিত শিক্ষক। অনার্স-মাস্টার্স করা তরুণ-তরুণীরা নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে ‘নিবন্ধন সনদ’ অর্জন করেছে এবং শিক্ষক হিসেবে শুধু তাদেরকেই নিয়োগ দেওয়া হবে।
কাজেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কাজটা স্বচ্ছ এবং সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু যুগোপযোগী শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি এনটিআরসিএ’র অব্যবস্থাপনা ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বনে এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এনটিআরসিএ’র নিয়োগ প্রহসনের কর্মযজ্ঞ: ক্স ২০১৬ সালে এনটিআরসিএ প্রথম গণবিজ্ঞপ্তি (উত্তীর্ণদের মধ্যে যারা চাকরি করতে চান তাদের আবেদনের আহব্বান) প্রকাশ করে। নিবন্ধিত শিক্ষকেরা আশার আলো দেখতে পান।
প্রথম গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা স্ব স্ব জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। কিন্তু আশায়গুড়ে বালি।শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিগত ভুলের কারণে একই ব্যাক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হন।আবেদনকৃত নিয়োগ বঞ্চিতদের নিয়োগের কোনো সুরাহা না করে ২০১৮ সালে আবার প্রকাশ করা হয় দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তি।
দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয় নিয়োগ পদ্ধতির। সেই সঙ্গে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশের সকল প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয় এবং সফটওয়্যার এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যাতে একই ব্যাক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ না পান। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩৯৫৩৫ টি শুন্য পদের গণবিজ্ঞপ্তিতে আবার আশান্বিত হন নিবন্ধিত শিক্ষকেরা।
কিন্তু বয়স ৩৫ উর্ধ্ব নিবন্ধিতদের আবেদন গ্রহণ না করা এবং মহিলা কোটা উল্লেখ না রাখায় বহুপদ শূন্যই থেকে যায়। ক্স ২০২০ সালে ৩১ মার্চ প্রায় ৫৪ হাজার পদের তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বদলি ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক ও এন্ট্রিলেভেলের শিক্ষক উভয়ই আবেদনের সুযোগ পান। ফলে ৩৬৫৪০ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও এদের মধ্যে ২১৮৭৩ জনই ছিল ইনডেক্সধারী (পূর্বে সুপারিশ ও এমপিও প্রাপ্ত) বাকী ১৪৬৬৭ জনের মধ্যে ফ্রেস জয়েন করেন মাত্র ১২ হাজার (প্রায়)।
আবার প্রকাশ করা হয় বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি তাতে পূর্বের ইনডেক্সধারীরাই আবারও সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। ১-১২তমদের প্রায় ১৫ হাজার পদে সুপারিশ না করে পদ ফাঁকা রাখা হয়। চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির ৬৮ হাজার শুন্য পদের মধ্যে ৪০হাজারের বেশি পদই ফাঁকা। অথচ এনটিআরসিএ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সকল পদই পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বারবার যদি পদ শূন্যই থাকে বা রাখা হয়, তবে কেনই বা গণবিজ্ঞপ্তি? লোকচক্ষুর অন্তরালে যা ঘটে: ক্স প্রথম গণবিজ্ঞপ্তিতে একই ব্যাক্তি একাধিক পদে সিলেক্ট হয়, ফলে বাকীপদগুলো আবেদনকৃতদের মধ্য থেকে পূরণ হয় না।
দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে পঁয়ত্রিশ উর্ধ্বদের নিয়োগের আবেদন গ্রহণ না করা এবং মহিলা কোটা উল্লেখ না রাখায় বহুপদ শূন্য থেকে যায়।আবার তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের ৩৯০০/২০১৯ নং রায় অনুযায়ী বয়সসীমা শিথিলযোগ্য করে ১-১২তম পঁয়ত্রিশ উর্ধ্বদের নিয়োগ আবেদনের সুযোগ রাখা হয়।
কিন্তু ১৫ হাজার পদে শিক্ষক সুপারিশ তো করেই না, বরং এন্ট্রিলেভেলের প্রায় ২২ হাজার পদ ইনডেক্সধারীদের দ্বারা পূরণ করায় চরম কৃত্রিম শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং ১-১২তমরা বারবার নিয়োগ বঞ্চিত হয়। ক্স চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএ’র আপিল বিভাগের রিভিউ মামলা চলমান রেখে ১-১২তমদের আবেদনের সুযোগ না রেখে বঞ্চিত করে, করোনাকালিন সময়ের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ব্যতিত) সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ৩১.১২.২০২১ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের বয়সসীমা ২৫.০৩.২০২০ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রজ্ঞাপনে ১৩তম, ১৪তম,১৫তম, ১৬তম (সনদের মেয়াদ তিন বছর এবং নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার জন্য এন্ট্রিলেভেল বয়স এমপিও নীতিমালা অনুসারে ৩৫ বছর) সনদধারীদের জন্য ৩৮ বছর নির্ধারণে লাভবান হলেও ১-১২তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমার মেয়াদ শেষ হবার একদিন আগেও সুপারিশ পেলে আইনগত নিয়োগে কোনো বাধা নেই, তাদের মধ্যে ৩৮ উর্ধ্বদের নিয়োগ আবেদন গ্রহণ করা হয় না। ক্স ১-১২তমদের একই তালিতায় অর্ন্তভূক্ত করায়, এদের নব্বইভাগেরই অবস্থান থাকে তালিকার পিছনের দিকে।
তালিকার প্রথম দিক থেকে স্বাভাবিকভাবে নিয়োগ সুপারিশ করা হলে কথা ছিলনা, ১ম-৩য় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের উপর আবেদনকৃতদের মধ্যে থেকে। এতে কেউ কেউ ৪০ নম্বর পেয়ে চাকরি পেলেও মেধাতালিকার প্রথম দিকের কেউ কেউ অধিক নম্বর পেয়েও হয়েছে নিয়োগ বঞ্ছিত। কোনো বিষয়ে হাজার হাজার পদ ফাঁকা থাকলে করতে হতো হাজার হাজার আবেদন।
এতে করে এনটিআরসিএ লাভবান হতো কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকার আবেদন করেও নিয়োগ নিশ্চিত করা যেত না। শুধু কি তাই, বছরে একাধিকবার প্রতি পরীক্ষায় ২০/৩০ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ এবং ১০/১২ হাজার নিয়োগ সুপারিশ করে, বাকীদের প্রহসনের মেধা তালিকার পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হতো এবং এখনও হচ্ছে। যদি এতেই ক্ষন্ত হতো তাহলেও শান্ত্ব্না পাওয়া যেত, এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানের ড্রাইভার ২ লাখ টাকায় উচ্চ মার্কের সনদ দিচ্ছেন, ৬ লাখ টাকায় সুপারিশ পাইয়ে দিচ্ছেন। এভাবে অবৈধ সনদের উচ্চ নম্বরের অসাধু ব্যাক্তি অবৈধ সনদে সুপারিশ প্রাপ্ত হলেও ১-১২তমদের তালিকার পিছনে রেখে প্রকান্তরে নিয়োগ বঞ্চিত করা হচ্ছে।
১-১২তমদের বারবার নিয়োগ সুপারিশ না করে, আবেদন গ্রহণ না করে, সম্মিলিত তালিকার পিছনে ঠেলে দিয়ে অযোগ্য ও নিয়োগ বঞ্চিত করেও ক্ষান্ত নয়, এবার এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে (যদিও কোনো প্রজ্ঞাপন হয়নি) ১-১২তমরা নিয়োগের জন্য কোনো আবেদন করতে পারবে না। গত ০২/০২/২০২৩ তারিখ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চের সিভিল রিভিউ ৫৪/২০২২ নং মামলা এনটিআরসিএ’র আপিল খারিজ করেছেন।তাহলে ১-১২তমরা নিয়োগে সুপারিশে বাঁধা কোথায়?নিয়োগ যদি না-ই দিবে, তাহলে আবেদন গ্রহণ, সম্মিলিত মেধা তালিকায় রাখা বা ম্যানেজিং কমিটির হাত হতে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কী? ক্স ১-১২তমদের নিয়োগ না দিতে যত কৌশল তা সাবেক মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কথায় সহজেই অনুমান হয়।
প্যানেল প্রত্যাশী নিবন্ধিত শিক্ষক সংগঠনের দীর্ঘ ২০০ দিন আন্দোলনের পর, যখন আলোচনায় টেবিল তৈরি হয়- তখন তার কাছে দুইটি দাবি যৌক্তিক মনে হয় এবং মেনে নেন। মহামন্য সুপ্রীম কোটের আপিল বিভাগের রায় থাকা সত্ত্বেও (এনটিআরসিএ’র করা আপিল রিভিউ চলমান রেখে) তিনি বলেন- বিদ্যমান আইনের বাইরে কিছুই করতে পারবেন না। অথচ মামলা চলমান রেখে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো (যদিও মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন গণবিজ্ঞপ্তি হবে না)।১-১২তমদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদন পরলেও যে সুপারিশ করা হয়নি, পদ শুন্য রয়েছে তার লিখিত ডকুমেন্ট সাবমিট করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তৃতীয় গণবিঞ্জপ্তির সময়, যে সব প্রতিষ্ঠান শুন্য পদ দেখিয়েছে, সেখানে ৪র্থ গণবিঞ্জপ্তির সময়ও ঐ প্রতিষ্ঠান পদ শূন্য দেখিয়েছে, সেখানে যারা দরখাস্ত করেছে তাদের চাকরি দেয়া হয়নি। দৈনিক আমাদের বার্তায়- ‘‘রিটে না মেরিটে’’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে প্রচুর অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনে একটি শ্রেণিকে সুবিধা প্রদানের খবর সামনে আসে। প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবাল স্যারের – কমন-সেন্সের বাইরে” শিরোনামের লেখায় ফুটে ওঠে এনটিআরসিএ’র অনিয়মের ফিরিস্তি। বিভিন্ন দৈনিকে আসে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানের ঢ্রাইভার এর অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনে কোটিপতি বনে যাওয়ার গল্প।
সাবেক মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় চরম হেয়ালিপনা কথা বলায় প্যানেল প্রত্যাশী নিবন্ধিত শিক্ষক সংগঠন বুঝে ফেলে যে, অনার্স-মাস্টার্স, এমএড-বিএড করা উ্চ্চ শিক্ষিত নিবন্ধিত শিক্ষকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।(দায়িত্বশীল পর্যায়ের নীতিনির্ধারকগণ ব্যপারটা ওয়াকিবহাল, তবু নিরব কারণ অল্প কথায় বলতে গেলে- সরর্ষের মধ্যেই ভূত না বলে ভূত তাড়ানো সরর্ষেই নেই বলা ভালো।) তিনি বলেন যে, তাঁর নামেও কোনো এক সাংবাদিক এলোমেলো কিছু কথা লিখেছিলেন, তিনি তাকে ডেকে এনে ধমক দিলে, সাংবাদিক ক্ষমা চেয়ে চলে যায়।
এনটিআরসিএ’র তথ্যমতে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে স্কুল কলেজ মিলে প্রকৃত চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা হিসেবে আবেদন পড়ে মাত্র ৮১ হাজার। সরোজ কুমার নাগ স্যার নিয়োগ বঞ্ছিতদের যে তালিকা গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে গণিত ও বিজ্ঞানের পর্যাপ্ত নিবন্ধিত শিক্ষক রয়েছেন।(মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের রিভিউ মামলা ৫৪/২২ নং মামলার রায় আছে, সনদে লিখা আছে নিয়োগ যোগ্য) তাদেরকে নিয়োগ না দিয়ে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল স্যার ডিপ্লোমা থেকে কেন শিক্ষক সংকট দূরীকরণ করতে চাইছেন কে জানে? জাল সনদে ও অবৈধ নিয়োগে ৬০ হাজার প্রার্থী চাকরি করছে অথচ বৈধ সনদধারীদের কৌশলে নিয়োগ বঞ্চিত করে রেখেছে।
গণবিজ্ঞপ্তি নামক প্রহসনে বারবার পদ ফাঁকা থেকে যাচ্ছে আর তৈরি হচ্ছেন কৃত্রিম শিক্ষক সংকট। শিক্ষক সংকট থাকার কারণে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে, নিবন্ধিত প্রকৃত চাকরি প্রত্যাশীরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে, কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। এতে এনটিআরসিএ তার মূল দায়িত্ব যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে হয়ে গেছে প্রতারণা ও অর্থসংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান।
এনটিআরসিএ যাদের বারবার নিয়োগ সুপারিশ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে ৬০ হাজার উচ্চমার্কের জালসনদধারী, ফাঁসপ্রশ্নে উত্তীর্ণ অতিউৎসাহি। ফলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য তো পূরণ হচ্ছেই না, সৃষ্টি হচ্ছে শিক্ষার বৈরী পরিবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কচিকাচা শিক্ষার্থী, সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব, বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত চাকরি প্রত্যাশী, সর্বোপরি ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি ।
অপর দিকে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত এক ঝাঁক অনার্স-মাস্টার্স করা তরুণ-তরুণীরা নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে ‘নিবন্ধন সনদ’ অর্জন করেছে, সরকারি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, অভিজ্ঞ এবং নতুন কারিকুলামে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেকেরই আছে পিডিএস আইডি। এছাড়াও নিবন্ধিত শিক্ষক, শিক্ষকতা পেশাকে ব্রত হিসেবে নিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনার্স-মাস্টার্স, এমনকি এমএড-বিএড করেও নামেমাত্র পারিশ্রমিকে প্রতিষ্ঠানের নিজিস্ব অর্থায়ণে (প্রতিষ্ঠানের শাখা অনুমোদন না থাকায়) হচ্ছেন বৈষম্যের শিকার। নতুন শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা এবং এইচএসসি লেভেলে থাকছে গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশোনার সুযোগ।
সুতরাং এইচএসসি লেভেলে প্রত্যেকটি কলেজে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা থাকবে বাধ্যতামূলক। ফলে নতুন করে কলেজে নিয়োগ হবে অনেক নিবন্ধনধারীর। যাদের স্কুল ও কলেজ উভয় নিবন্ধন আছে, তাদের অনেকেই সুযোগ নিবে কলেজ নিবন্ধনের বিপরীতে চাকরির। শিক্ষক নিবন্ধন সনদ চাকরির সনদ, একাডেমিক সনদ নয়। শিক্ষকতা ছাড়া এ সনদ অন্য কোনো কাজে আসবে না।
সুতরাং সনদ যার, চাকরি তার- এমনটিই হওয়া উচিত। ঢাকা শহরসহ ৮০% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০% শিক্ষক হচ্ছেন নন এমপিও। শুধু নন এমপিও নয়, এডহক শিক্ষকের সংখ্যাটাও কম নয়। এরপরেও কাটছে না শিক্ষক সংকট। স্কীম ডিরেক্টর সৈয়দ মাহফুজ আলী কারিকুলাম বাস্তবায়ন প্রশিক্ষণে প্রতিটি কেন্দ্রে, প্রতিটি কক্ষে শিক্ষকদের দ্বারা উত্থাপিত এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হিসেবে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অসামঞ্জস্য অনুপাতের বিষয়ে সমর্থন জ্ঞাপন করেন। এনটিআরসিএ’র তথ্যমতে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে স্কুল কলেজ মিলে প্রকৃত চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা হিসেবে আবেদন পড়ে মাত্র ৮১ হাজার। শূন্য (এমপিও ভূক্ত অপেক্ষামান পদ) সারা বাংলাদেশে লক্ষাধিক।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শিক্ষক সংকট দূরীকরণে- বছরে চারবার শিক্ষক নিযোগের কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এনটিআরসিএ’র হাতে পর্যাপ্ত শিক্ষকও আছে, তবে কেন সনদ বাতিলের মত হটকারি সিদ্ধান্ত এনটিআরসিএ’র। আইনি বাধ্যবাধকতা বা সংঘর্ষিক প্রাথীদের ক্ষেতে আইনিভাবেই সমাধান করতে হবে। ঢালাওভাবে সকল নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ বঞ্চিত করা আইন বহির্ভূত কাজও বটে। এতে শুধু নিবন্ধিত শিক্ষক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্থ হবে পুরো বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা।
প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে নিউ কারিকুলাম বাস্তবায়ন। তাহলে এনটিআরসিএ’র দুরভিসন্ধিমূলক কাজ করার পেছনে শক্তির উৎস কোত্থেকে, কিভাবে পেল? গত ০২/০২/২০২৩ তারিখ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চের সিভিল রিভিউ ৫৪/২০২২ নং মামলা বিলম্বিত করে দায়ের করায় এনটিআরসিএ’র আপিল খারিজ করেছেন। তাহলে পরে সহজেই অনুমিত অযথা হয়রানি ও আইনগত অধিকার বঞ্চিত করে অবৈধ সনদ বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্যই তাদের মূল লক্ষ্য । যেহেতু ১২.০৬.২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের পূর্বে যারা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ লাভ করেছে তাদের ক্ষেত্রে বয়সীমা শিথিলযোগ্য অর্থাৎ নিবন্ধিত শিক্ষকেরা চাকরির বয়সসীমার মেয়াদ শেষ হবার একদিন আগেও সুপারিশ পেলে আইনগত নিয়োগে কোনো বাধা নেই। এককবার একেকটি পরীক্ষায় প্রর্থীরা এককে নাম্বার পান।
পদ্ধতিগত পরিবর্তন হলে মূল্যায়ণনর সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যায়। তাই সম্মিলিত তালিকা করায় কোনো কোনো ব্যাচ লাভবান হয় আবার কোনো কোনো ব্যাচের একেবারে বিনা কারণে সর্বনাশ হয়ে যায়। সুতরাং ১-১২তমদের গেজেটের বাস্তবায়ন করে, পরবর্তীদের জন্য প্রকাশিত গেজেটে পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে না দিয়ে, নিয়োগ বঞ্চিত না করে স্ব স্ব নীতিমালায় ১-১২তমদের সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা করুন্। অনথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোঘণা-‘‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যোগ্যতা অর্জন কর’’ প্রতিপাদ্যটি মিথ্যে হয়ে যাবে।
রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যারা যোগ্যকে অযোগ্য, বৈধকে অবৈধ করছে এবং মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ও মানছে না, তাদের ব্যাপারে সময় এসেছে এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার। শিক্ষাক্ষেত্রকে যারা কৌশলে মেধাশূন্য ও ভিন্ন প্লাসর্ফম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন তাদের জেনে রাখা ভালো- এভাবে চলতে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অধরাই থেকে যাবে। অদূরভবিষ্যৎ-এ যোগ্য শিক্ষক বাইরের কোন দেশ থেকে আমদানি করতে হবে। আর যদি শিক্ষার গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখতে চান, তাহলে ঐসকল জাল সনদধারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, এনটিআরসিএ’র সকল অনিয়ম তদন্ত করতে হবে, বৈধ সনদধারীদের সরাসরি নিয়োগ দান করতে হবে।[মতামত লেখকের একান্ত এই জন্য কতৃপক্ষ দায়ী নয়]
শিবা/জামান
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
