নিজস্ব প্রতিবেদক।।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের দায়ে মাদরাসার এক অধ্যক্ষকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার রাজাপুরা আল আমিন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ছায়েদুল ইসলামকে দুই বছরের এই সাজা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত।
রবিবার (৩ মার্চ) শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার সরকারি গাড়ি দূরে রেখে পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
এ সময় ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত অফিস সহকারী, আয়া এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক ছোটাছুটি শুরু করেন। তাই দৃশ্যটি নজরে পড়ে তার। এরইমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেন্দ্রে অনিয়ম ও নকলের বিষয়টি অনুমান করতে পেরে শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি শুরু করেন। পরে শ্রেণিকক্ষের বাইরে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাউন্ডারি সীমানার মধ্যে অসংখ্য হাতের লিখা প্রশ্নের উত্তর ও নকল দেখতে পান।
এরপর হাতে লেখা এসব নকল দেখে কেন্দ্রে উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এই কর্মকর্তা।তার জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, রাজাপুরা আল আমিন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ছায়েদুল ইসলাম তার মাদরাসার কম্পিউটারের প্রিন্টারে ২৫-৩০ কপি নকলের প্রিন্ট বের করেছেন। এরপরই শুরু হয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ। একপর্যায়ে এই অধ্যক্ষ স্বীকার করেন, বাসায় তিনি নিজের মুঠোফোন রেখে এসেছেন।
তার সেই নম্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল দিলে পাশের ব্যাগের মধ্যে মোবাইল ফোনটি বেজে ওঠে। তবে মোবাইল ফোনে প্যাটার্ন লক ছিল। এ সময় তাকে প্যাটার্ন লক খুলতে বললে তিনি তাৎক্ষণাৎ মোবাইল থেকে কিছু একটা ডিলিট করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তার মুঠোফোন তল্লাশি করে হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে শ্রেণিকক্ষের বাইরে উদ্ধারকৃত হাতে লেখা নকলের হুবহু ছবি পাওয়া যায়।
এ সময় অধ্যক্ষ দোষ স্বীকার করায় পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ৯(ক) ধারা মোতাবেক দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত।
অভিযুক্ত রাজাপুরা আল আমিন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ছায়েদুল ইসলামের (৫৩) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ভদ্রগাছা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত সুন্দর আলী। দীর্ঘদিন ধরে এই মাদরাসায় অধ্যক্ষ পদে দাযিত্ব পালন করছেন। পরীক্ষার হলে এইরকম চিত্র হরহামেশাই। জেলে যাই আবার ছাড়া পাই। সংশ্লিস্টদের ম্যানেজ করে আবার বহালতবিয়তে। আমরা জাতী হিসেবে কলংকিত হতে থাকবো আর কত এই প্রশ্ন থেকেই যায়।
শিবা/জামান
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
