সুভাষ বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুরঃ জেলার পীরগঞ্জ উপজলেয়ার এমপিওভুক্তির নির্দেশপ্রাপ্ত ছাতুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরমান হোসেন মুকুলকে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে সাময়িক বরখাস্তের কপি পাঠানো হয়।
অভিযোগে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের ছাতুয়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কিছুদিন আগে এমপিওভুক্তির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরমান হোসেন মুকুল তার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া রেজল্যুশনে নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাগজপত্র তৈরি করেন। এরপর তিনি গত ৭ অক্টোবরে এমপিওভুক্তির জন্য তার পদসহ তিনজনের বেনবেইজ ফরম পূরণ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠান।
আবেদনটি রংপুর অঞ্চলের শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালকের কাছে গেলে জালিয়াতির খবর প্রকাশ হয়ে পড়ে।
অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের ছাতুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। কিছুদিন আগে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। বিদ্যালয়টিতে আরমান হোসেন মুকুল নামে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে মৌখিক দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা বা সভা না করেই ম্যানেজিং সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া রেজ্যুলেশনে রাতারাতি নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাগজপত্র সৃজন করেন। পরে ওই কথিত প্রধান শিক্ষক গত ৭ অক্টোবরে বেতনভাতার জন্য বেনবেইজ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন। এরপর আবেদনটি রংপুর অঞ্চলের শিক্ষা বিভাগের উপণ্ডপরিচালকের কাছে প্রেরন করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ হলে ওই বিদ্যালয়ের এমপিও আবেদন বঞ্চিত কর্মচারীরা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
অপরদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন প্রধান শিক্ষকের ওই অপকর্মের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার জন্য রংপুর অঞ্চলের শিক্ষা বিভাগের উপণ্ডপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
গত ২৫ অক্টোবর, অভিযোগ করলে তা তদন্তের জন্য ২৫ অক্টোবরেই নির্দেশ দেন রংপুরের উপ পরিচালক।
বিদ্যালয়টির কথিত প্রধান শিক্ষক আরমান হোসেন মুকুল স্থানীয় গণমাধ্যমক কর্মীদের বলেন, আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় কাগজপত্র স্বাক্ষর করে এমপিওভুক্তির (ব্যানবেইজ) আবেদন করেছি। কেন ৩ জনের নামে ব্যানবেইজ প্রেরন করলেন তিনি এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যে দূর্নীতি করেছেন, তা অমার্জনীয় অপরাধ। কাগজপত্র জালিয়াতি করে তিনিসহ শুধু ৩ জনের নামে বেনবেইস প্রেরণ করায় অপর শিক্ষক, কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০১/২০২৪
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
