উচ্চশিক্ষার জন্য ‘জার্মানি’ যেতে চাইলে

ঢাকাঃ বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী যেতে আগ্রহী—এমন দেশগুলোর মধ্য অন্যতম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানি। এসব দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত নভেম্বর থেকে শুরু করে জানুয়ারির মধ্যেই বেশির ভাগ বিদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করে থাকেন। এ ছাড়া চীন, জাপান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিও আগ্রহ আছে আমাদের শিক্ষার্থীদের।

উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকেই ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক। এদের মধ্যে অনেকেরই পছন্দের দেশ ‘জার্মানি’। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সে দেশে পড়তে যায় অনেক শিক্ষার্থী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাওয়ার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম রয়েছে। তবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণ কিছু নিয়ম বিশ্বের প্রায় সব দেশে একই। তাই আপনি যদি জার্মানিতে পড়তে যেতে চান, তবে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোর্স, শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ, জীবনযাপনের ব্যয়সহ নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এসব তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে সাধারণ আরোকিছু তথ্য মাথায় না রাখলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন যথাসময়ে এবং সুষ্ঠুভাবে হতে সমস্যা হতে পারে।

অনেকেই আগে জার্মানির ভাষা শেখেন। জার্মানিতে পড়তে যেতে হলে জার্মান ভাষা শেখাটা জরুরি নয়। জার্মানির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার কোর্স রয়েছে। ফলে জার্মানিতে যেতে শুরুতেই ভাষাকে গুরুত্ব না দিয়ে জেনে নিন জার্মানি যাওয়ার অন্যান্য বিষয়গুলো।

প্রথমেই কোন বিষয়টি নিয়ে পড়তে চান তা নির্ধারণ করে নিন। নির্ধারিত বিষয়ের জন্য আপনার পছন্দ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন ভালোভাবে জেনে নিন। সবকিছু ভালো করে জেনে কর্তৃপক্ষকে আপনার এর আগের পড়াশোনার সার্টিফিকেট সম্পর্কে অবগত করুন।

যদি আপনার সার্টিফিকেট ঐ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ না করে তাহলে এক বছরের একটি প্রিপারেটরি কোর্স করতে হবে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে আপনার এর আগের পড়াশোনা এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান তাদের নিয়মকানুনের ওপর।

জার্মানিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে হলে যা যা থাকতে হবে, তা হলো সঠিকভাবে পূরণ করা আবেদনপত্র, সব ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, সেগুলোর অনুবাদ করা অনুলিপি, পাসপোর্টের অনুলিপি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণপত্র।

এক বছর পড়াশোনা ও বসবাসের খরচ চালানোর মতো আর্থিক সচ্ছলতার কিছু নথি দেখাতে হয়। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে এক বছরের খরচ হিসেবে ১১ হাজারের বেশি ইউরো থাকার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি কোনো শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে থাকলে তার নথি, মা–বাবার আয়ের হিসাব ও সম্পদ, জার্মানির কোনো ব্যাংকে ব্লকড অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখা, ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাতে হবে।

এছাড়া জার্মানিতে বসবাসরত কেউ চাইলে আপনার পুরো পড়াশোনার খরচের অর্থায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারে।

আর জার্মানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই জার্মান অ্যাকাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিসে চোখ রাখুন। জার্মান অ্যাকাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস(DAAD) হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যেটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি তত্ত্বাবধান করে থাকে। DAAD স্কলারশিপ ডাটাবেজ থেকে বৃত্তিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানা সম্ভব।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.