উধাও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা

নীলফামারীঃ জেলার ডিমলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উধাও হয়েছেন। সঙ্গে উধাও ওই শিক্ষিকার তিন সন্তান। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ি গ্রামে। এ ঘটনায় বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর ডিমলা থানায় অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকার স্বামী মহির উদ্দিন। তবে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ওই শিক্ষিক ও শিক্ষিকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অভিযুক্ত শিক্ষক সহিদুল ইসলাম (৪০) উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং শামসুল হকের ছেলে। স্ত্রীসহ তিন সন্তান রয়েছে তার। শিক্ষিকা রাউছিলিয়া বেগম (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা দুজনেই খড়িবাড়ি এলাকার শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর রাউছিলিয়া বেগম তার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে তিন সন্তানসহ অভিযুক্ত সহিদুলের সঙ্গে বের হয়ে যান। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজি করেও তাদের কোনো হদিস পায়নি। পরে স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় বুধবার তার স্বামী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ওই শিক্ষিকার স্বামী মহির উদ্দিন বলেন, শিক্ষক সহিদুলের স্ত্রী সন্তান থাকার পরও আমার তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। সুস্থ অবস্থায় আমার স্ত্রী- সন্তানদের আমি ফেরত চাই। শিক্ষক নামের ওই অমানুষের কঠিন বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, সহিদুল ইসলাম এর আগেও প্রথম স্ত্রী ও সন্তান রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক সহিদুলের প্রথম স্ত্রী বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু বিয়ে করেছি সে কারণে সব মুখ বন্ধ করে সহ্য করে আসছি। বিয়ের ২০ বছর পর ২০২০ সালে রিতি নামের এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে পরিবার ও আমার অনুরোধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি। এখন তার সহকর্মী ওই শিক্ষিকাকে তিন মাস আগে তৃতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানতে পেরেছি।

শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ময়নুল হক বলেন, ঘটনা শোনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বর্তমানে ওই দুই শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাজ্জাদুজ্জামান জানান, ওই দুই সহকারী শিক্ষকের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ রায় জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। ওই শিক্ষিকাসহ তার সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.