শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কারিকুলাম এনেছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সব ক্লাসে দেয়া হবে। কিন্তু প্রথম বছরেই নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে এই শিক্ষা ব্যবস্থা। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
মিজানুর রহমান হৃদয় লিখেন- পোলাপানকে মহাকাশ গবেষক না বানিয়ে আলু ভর্তার গবেষক বানাচ্ছে। পদার্থ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান হাতে কলমে না শিখিয়ে কীভাবে বিছানা গোছাতে হয়? ডিম ভাজতে হয়? যাত্রাপালায় অভিনয় করতে হবে সেগুলো শেখানো হচ্ছে। এজন্য নতুন কারিকুলাম নিয়ে এত সমালোচনা।
আসাদুজ্জামান শেখের মতে- অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি হয় না, নতুন কারিকুলাম পুরোপুরি অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি। মো. শামীম- যারা এই নিয়ম করতেছে খুঁজে দেখেন তাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে খেলা পড়া করতেছে। আর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জান্নাত আরশী লেখেন- নতুন কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত বইগুলোতে গালগপ্পো শুনে খুশি না হয়ে বইগুলো দেখেন।
ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে দেখেন তারা গত এক বছরে কি কি অর্জন করেছে? অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে দেখেন তারা গত এক বছরে কি কি বিষয় নিয়ে নিজের ভুক্তভোগী ভাবছে। সৃজনশীল দেয়ার সময়ও অনেক গালগপ্পো শুনেছিলাম। মুখে মুখে হাজারও কথা বলা যায়। বাস্তবে গিয়ে অশ্বডিম্ব।
রাফিয়াতুল জান্নাত লেখেন- মোবাইল নিয়ে পড়ার থেকে গাইড নিয়েই পড়া ভালো ছিল। আর এখন কার পড়ালেখা মোবাইল আর কাগজ, ফুল। আজ এটা লাগবে কাল ওটা। এর থেকে না পড়ালেখা করাই ভালো। মাদ্রাসাতে পড়ালেখা ভালো। চাকরি না হোক আলেম তো হবে এতেই অনেক।
জান্নাত লেখেন- যাদের বাচ্চারা ষষ্ঠ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে, আমরা অভিভাবকরা দেখছি বাচ্চা কি পড়ছে। আমরা সবাই ভুক্তভোগী। কারিকুলাম অনুযায়ী পড়াশোনা হচ্ছে না। হুট করে মাঝপথে এই কারিকুলাম শুরু করা উচিত হয়নি। নতুন কারিকুলাম শুরু করতে হতো ক্লাস ওয়ান থেকে, ওরা সেভাবেই গড়ে উঠতো। কিন্তু ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের হুট করে এমন কারিকুলামে সমস্যা হচ্ছে। রোহান লেখেন- এক কথায়, আমরা এই কারিকুলাম চাই না।
তবে এর পক্ষেও মত দিয়েছেন অনেকেই। রুবাইয়া জাহান রিপা নামে এক শিক্ষক লেখেন- একজন শিক্ষক হিসেবে বলবো, পাঠ্যপুস্তক এ শেখার মত অনেক কিছুই আছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতিটা পরিবর্তন করলে ভালো হবে। গার্ডিয়ানদের সচেতন করতে হবে। রান্নার বিষয়টা কোন বিষয়ে দেয়া আছে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। মশিউর রহমান নতুন কারিকুলাম নিয়ে সমালোচনার মূল কারণ হিসেবে বলেন- কারিকুলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং নতুনকে গ্রহণ করার মানসিকতা না থাকা।
শাহিদা ইতু লেখেন- নতুন কারিকুলাম আমার কাছে ভালো লেগেছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পর কারিকুলাম চালু করলে হয়তো এতটা সমালোচনা হতো না। গ্রেডিং পদ্ধতি, সৃজনশীল নিয়েও এমন সমালোচনা হয়েছিল আবার মেনেও নিয়েছে।
গোলাম আজম খোকন লেখেন- আমি একজন শিক্ষক হিসেবে মনে করি এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক ভালো। এই কারিকুলামে শুধু পড়া নয়, পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। যেটা আগের কারিকুলামে ছিল না। সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলাম হওয়ার কারণে অনেক অভিভাবক কারিকুলাম বুঝতে পারছে না।
তাই তারা বিরূপ মন্তব্য করছে কিন্তু কয়েক বছর পর যখন এই কারিকুলাম প্রতিষ্ঠিত হবে তখন ঠিকই এর ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। অভিভাবকদের বইগুলো ভালো করে পড়তে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল থেকে নয়, নিজে চিন্তা করে কাজগুলো করতে হবে।
সিরাজ বিপ্লব লেখেন- যারা সমালোচনা করছেন, তারা জাস্ট না বুঝেই করছেন। আপনি একজন একজন করে ধরে ধরে জানতে চান, দেখবেন সমালোচনাকারী কেউই আপনাকে এই কারিকুলাম সম্পর্কে ক্লিয়ার বলতে পারছেন না।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০২/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
